তাজা খবর:

সড়ক দূর্ঘটনা : বগুড়ায় যুবকের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন                    ঘোড়াঘাটে ভিক্ষুক মুক্তকরণ কর্মসুচীর তহবিল গঠন                    নড়াইলে ইয়াবা ও গাজাসহ ১০ মাদকবিক্রেতা আটক                    মোল্লাহাটে দুস্কৃতিকারীদের হামলায় ভূমি মালিক পক্ষের আহত-৪                    পীরগাছা ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা                    ছাত্রলীগ নেতার উপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন                    সরকার দলীয় সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি রাজশাহীর নিত্যপণ্যের বাজার                    তথ্য প্রযুক্তির দিনে আমরা তলা বিহীন ঝুড়ির দেশে থাকবনা: মন্ত্রী                    টেকনাফে আড়াই লক্ষ ইয়াবাসহ জব্দ, পালিয়েছে ৪ মাদক ব্যবসায়ী                    মধুখালীতে লোকালয়ে ২টি চিতা বাঘের শাবক                    
  • শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

কালীগঞ্জে বন্দুক যুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ি নিহত

কালীগঞ্জে বন্দুক যুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ি নিহত

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে শামিম সরদার (৪৫) নামে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি নিহত

চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রী হত্যায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রী হত্যায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামে স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিন (১৫) হত্যাকান্ডের ঘটনায় আদনান মির্জাকে প্রধান আসামি করে ৬

১১ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করল ছয় বছরের শিশু!

১১ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করল ছয় বছরের শিশু!

অনলাইনে অর্থ উপার্জনের বিষয়টি নিয়ে অনেকেই চেষ্টা করেন। কিন্তু এ কাজটিতে সবাই যেমন সফল হতে

বরিশালে তিন বিদ্যালয়ে কেউ পাশ করেনি

বরিশালে তিন বিদ্যালয়ে কেউ পাশ করেনি

 ঘোষিত এসএসসি’র ফলাফলে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের তিনটি বিদ্যালয়ের কোন পরীক্ষার্থীই পাশ করতে পারেনি।

ক্যাপ্টেন মজিব ছাড়া গৌরীপুরের ইতিহাস অসম্পূর্ণ

এফএনএস (ইকবাল হোসেন জুয়েল; গৌরিপুর, ময়মনসিংহ) :

03 May 2018   06:13:15 PM   Thursday BdST
A- A A+ Print this E-mail this
 ক্যাপ্টেন মজিব ছাড়া গৌরীপুরের ইতিহাস অসম্পূর্ণ

২০০৪ সালের বাংলা বৈশাখ মাস। রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত টানা কালবৈশাখী ঝড়ে ল-ভ- গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের সোনাকান্দি গ্রাম থেকে পাছার বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কি.মি. জনপদ। সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত থাকার কারণে আমরা সংবাদটি পেলেও বর্তমান সময়ের মতো অবাধ তথ্যপ্রবাহ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম না থাকায় আর মুষলধারে বৃষ্টির পাশাপাশি সে সময়ে দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিতি সোনাকান্দি গ্রামের উপর ঝড়ের খবর অন্যান্যের পক্ষে জানা খুব কঠিন ছিল। সে সময় যে কোনো দুর্যোগ বা কারও মৃত্যু হলে তাৎক্ষণিক তাকে জানানোর নির্দেশ ছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকিরের। রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় উনাকে যখন কালবৈশাখীর তা-বের সংবাদটি জানাই তখন তিনি বলেন, আমার জিপটি গ্যারেজে। আমি, ডা. হরিশংকর দাদার গাড়ি নিয়ে আসছি। তুমি বাইক নিয়ে তৈরি থেকো। পাশাপাশি তিনি ঘটনাস্থলে যাবার বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বলেন। রাত ১১টার কিছু পর একটি প্রাইভেট কার নিয়ে যখন গৌরীপুরে আসলেন, তখন মুষলধারে বৃষ্টি। বৃষ্টির জন্য তিনি গাড়ি থেকে না নেমে সরাসরি শাহগঞ্জ চলে যান। আমিও বাইক নিয়ে তার পিছনে পিছনে যেতে থাকি। শাহগঞ্জ বাজার থেকে ডান পাশে বর্তমানে যে পাকা সড়কটি গিয়েছে সেখানে গিয়ে রাস্তার দুরাবস্থা দেখে আমার এগুতে সাহস হচ্ছিল না। বৃষ্টিও থামেনি তখনও। পাশাপাশি সে সময়ের মূর্তিমান আতঙ্ক দুলাল ডাকাত (পরবর্তীতে নির্বাচিত চেয়ারম্যন) তখন এলাকায়। নির্জন রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে তার সাথে কথা বলে নিরুৎসাহিত করে ফিরে আসাটাই তখন আমার প্রধান চিন্তা ছিল। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যাবেন। ঝড়ো বৃষ্টি আর বজ্রপাতের কারণে ঝুঁকি থাকলেও তিনি গাড়িতে করেই ঘটনাস্থলে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তী সময়ে কর্দমাক্ত, গভীর গর্তে ভরপুর ওই রাস্তাটি পার হতে গিয়ে তার গাড়িটি কতবার যে পিছনে রাস্তা থেকে নেমে যেতে চেয়েছে তা পিছনে বাইকে থেকে (১ম পৃষ্ঠার পর) নামেন রেইনকোট ও গামবুট পরিহিত ক্যাপ্টেন মজিব। হাতে শক্তিশালী টর্চলাইট। সে সময় বিশ্বস্ত আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা আগে থেকে সংবাদ পেয়ে আমাদের জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিলেন (এ মুহূর্তে সঠিক নামগুলো মনে নেই)। তাদের নিয়ে চাষ করা ধান ক্ষেতের আইল,  কাদাপানি পেরিয়ে ক্যাপ্টেন মজিব ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মাঝে প্রকার ভেদে ২ হাজার থেকে ৫শত টাকা নগদ বিতরণ করেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। ভোর প্রায় ৪টায় আমরা পাছার বাজারের কাছাকাছি অবস্থানকালে খালি গায়ে টর্চলাইট হাতে নির্জন বাজার থেকে একা বের হয়ে আসেন সহনাটী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জিল্লু ভাই। তিনি দুর্যোগপূর্ণ গভীর রাতে ক্যাপ্টেন মজিবকে দেখে এতটাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন যে, কোনো কথাই বলতে পারছিলেন না তিনি। আমি জিল্লু ভাইকে ক্যাপ্টেন মজিবের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। পরবর্তীতে সেখানে আর সময় ক্ষেপণ না করে আমরা ফিরে আসি। পরদিন জিল্লু ভাই গৌরীপুর এসে আমাকে খোঁজে বের করে শুধু একটি কথাই বলেন, আপনারা ভাগ্যবান, ক্যাপ্টেন মজিবের মতো নেতা পেয়েছেন।
এ ঘটনাটি আমি এজন্য উল্লেখ করেছি, কারণ ১৯৯৩ সনে আনুষ্ঠানিকভাবে গৌরীপুর রাজনীতিতে আমৃত্যু অর্থাৎ ২০১৬ সনের ১লা মে পর্যন্ত হিসাব করলে দীর্ঘ ২৩ বছরের ১৭ বছরই তিনি ছিলেন এমন মানবিক গুণসম্পন্ন। তার সমগ্র অস্তিত্ব জুড়ে ছিল শুধু গৌরীপুর। যে ১৭ বছরের কথা উল্লেখ করলাম সেখানে শুধু স্থান পেতো গৌরীপুরের মানুষের সুখ-দুঃখ আর গৌরীপুরের উন্নয়ন।
এখানে একটি কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, সে সময়ের বিএনপির ক্লিন ইমেজের প্রার্থী এএফএম নাজমুল হুদা আর জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী প্রার্থী নূরুল আমিন খান পাঠান সাহেবের ব্যক্তি ইমেজ এলাকা ও ভোট ব্যাংকের কথা। তাদের মুখোমুখি হওয়ার মতো স্থানীয় আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থী না থাকার কারণেই তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগের বাহির থেকে তুমুল জনপ্রিয় নজরুল ইসলাম সরকারকে দলে এনে মনোনয়ন দেয় এবং তিনি বিজয়ী হন। সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর পর শুধুমাত্র সিমপিথি ভোটের কারণে আটপৌড়ে গৃহবধু রওশন আরা নজরুলকে উপনির্বাচনে প্রার্থী করে ফলাফল ঘরে তুলে আওয়ামী লীগ। কিন্তু এটা যে ওয়ানটাইম তা যেমন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জানতেন, তেমনি জানতেন দলীয় হাইকমান্ডও।
১৯৯৩ সনে ক্যাপ্টেন মজিব গৌরীপুর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হবার সময় থেকেই তাকে দলীয় গ্রুপিংয়ের কবলে পড়তে হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৯৬ সনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও গৌরীপুরে ক্যাপ্টেন মজিব স্বল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। দল ক্ষমতায় থাকার সুবাদে স্থানীয় নেতারা সে সময় বিএনপির সংসদ সদস্যের টিআর, কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের ভাগ নিতো। কিন্তু এ সকল অন্যায় সুযোগ-সুবিধা থেকে তিনি সবসময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলতেন। সে সময় প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতারা গৌরীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রদর্শনীর নামে জুয়ার মেলার আয়োজন করে। যে কয়দিন এ প্রদর্শনী চলছিল সে কয়দিন তিনি গৌরীপুরে আসেননি। নির্বাচনে পরাজিত হবার পর থেকে তিনি তার জিপ গাড়িটিতে ভাঙা রাস্তা পারাপারের জন্য লোহার মই, শক্ত কাঠের তক্তা  বোঝাই করে বিশ্বস্ত চালক আনোয়ার ড্রাইভারকে নিয়ে ছুটে বেরিয়েছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। তখন পর পর দ’ুবার সরকার বিরোধী (১৯৯০-১৯৯৬) এমপি নির্বাচিত হবার কারণে সে সময় উন্নয়ন কর্মকা- প্রায় স্থবির ছিল। যে ভাঙা রাস্তা দিয়ে বাইক পার হতো না, সেখান দিয়ে জিপ গাড়ি নিয়ে তিনি ছুটে বেরিয়েছেন। গড়ে তুলেছেন নিজের বিশাল ব্যক্তিগত ইমেজ। যার ফলাফল তিনি লাভ করেন ২০০১ সনের নির্বাচনে। জাতীয়ভাবে সারা দেশে আওয়ামী লীগ ৩শত আসনের মধ্যে মাত্র ৫৮টি আসন লাভ করে। আর তার একটি গৌরীপুরের ক্যাপ্টেন মজিব। দলীয় এমপি নির্বাচিত হলেও দল ক্ষমতায় না থাকায় এবং এমপি হিসেবে প্রাপ্ত বরাদ্দে বিএনপির অর্ধেক ভাগ পাশপাশি আওয়ামী লীগ দলীয় নেতৃবৃন্দের চাহিদা, সব মিলিয়ে পরিবেশ ঘোলাটে হয়ে পড়ে। এমপি হিসেবে প্রাপ্ত টিআর, কাবিখা বিতরণ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে প্রবীণ নেতৃবৃন্দের সাথে বৃদ্ধি পায় ক্যাপ্টেন মজিবের দূরত্ব। ক্যাপ্টেন মজিব চাইতেন তৃণমূল নেতাকর্মী যারা দলের থেকে কোনাদিন ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা পায়নি তাদের কিছু দিতে। কিন্তু সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা তালিকা দিয়ে তাদের পছন্দের মতো টিআর, কাবিখা বরাদ্দ দিতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। কিন্তু ক্যাপ্টেন মজিব আপস না করাতে শুরু হয় দূরত্ব। শক্তিশালী প্রবীণ নেতৃত্ব, যাদের সাথে কেন্দ্রের সরাসরি যোগাযোগ, তারা শিল্পপতি এম, এ হান্নানকে মাঠে নামিয়ে ক্যাপ্টেন মজিবকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিলে সভাপতি পদে এম, এ হান্নানকে ক্যাপ্টেন মজিবের বিপরীতে সভাপতি পদে প্রার্থী করেন। দলের দুর্দিনে ৫৮ সিটের একজন এমপি হয়েও ওয়াকওভার পাননি ক্যাপ্টেন মজিব। কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত হতে হয়। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বিধুভূষণ দাস। হান্নান সাহেব কাউন্সিলে পরাজিত হলেও থেমে থাকেনি বরং আরও কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী হয়ে মাঠে অবস্থান নিতে উঠেপড়ে লাগেন। কিন্তু ততদিনে ক্যাপ্টেন মজিবও রাজনৈতিক মাঠে পাকা খেলোয়ার। উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেন তিনি। পরীক্ষিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ তার প্রতি আনুগত্যদের নিয়ে ওই কমিটি গঠন করে তিনি। দলের সিনিয়র নেতৃৃবৃন্দের প্রায় সকলকে স্থান দেন উপদেষ্টা কমিটিতে। প্রতিটি ইউনিয়ন কমিটি গঠনের সময়ও তার প্রতি আস্থাশীল নেতাদের নেতৃত্বে আনা হয়। তৃণমূলের মাধ্যমে নিজেকে শক্তিশালী করতে থাকেন তিনি। এমপির প্রাপ্ত বরাদ্দ তিনি তৃণমূল নেতাকর্মী, মৃত নেতাকর্মীদের কবর পাকাকরণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের মতো সৃজনশীল কাজে বরাদ্দ প্রদান করেন। এর মাঝে গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনে ক্যাপ্টেন মজিব মনোনীত প্রার্থী বিদ্রোহী শফিকুল ইসলাম হবির নিকট হেরে গেলে পুনরায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন তিনি।
অনাকক্সিক্ষত একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এম, এ হান্নানের মৃত্যু হলে ক্যাপ্টেন মজিববিরোধী ওই গ্রুপটি তার প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামান তৎসময়ের শেখ হাসিনার সাথে প্রিগেড ক্রয় দুর্নীতি মামলার কেইস পার্টনার এয়ার কমোডর একে আজাদকে। ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকায় ক্যাপ্টেন মজিব বিরোধীদের একজোট করে বিনিময়ে দলের বিশাল একটি অংশকে তার পক্ষে নিতে সক্ষম হন কমোডর আজাদ। অগণিত টাকা কমোডর আজাদকে এ ক্ষেত্র বাড়তি সুবিধা প্রদান করে। রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের মাঠে কমোডর আজাদকে মোকাবেলা করতে সৎ এমপি ক্যাপ্টেন মজিবের প্রাপ্ত ভাতার টাকাই যথেষ্ট ছিল না। বাধ্য হয়ে তিনি কলতাপাড়া ও শাহগঞ্জের জায়গা দুটি বিক্রি করে দেন। মাঠ পর্যায়ে কমোডর আজাদকে প্রতিহত করতে তিনিও পাল্টা কৌশল অবলম্বন করেন। যার প্রেক্ষিতে ভাংনামারী ইউনিয়নে কমোডর আজাদের গাড়ি ভাঙচুরসহ তার সফরসঙ্গীদের লাঞ্ছিত করে ক্যাপ্টেন মজিব সমর্থকরা।
২০০৬ সনের নির্বাচনে নানা নাটকীয়তার পর পুনরায় মনোনয়ন পান ক্যাপ্টেন মজিব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলে মঈন-ফখরুদ্দিন সেনা সমর্থিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে রাজনৈতিক কর্মকা- প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ থাকলেও এতে ক্যাপ্টেন মজিবের অসুবিধার পরিবর্তে সুবিধা হয়। তার ছোট মেয়ের জামাতা মেজর রাশেদ ময়মনসিংহ জেলায় জাতীয় পরিচয়পত্র ও নির্বাচনী আসন পুনঃবিভাজনের দায়িত্বে থাকায় তিনি কোনো বাধাসহ বিরামহীন রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করতে থাকেন।
অপরদিকে পর পর টানা তিন সংসদ নির্বাচনে সরকার বিরোধী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার কারণে সম্পূর্ণ উন্নয়নবঞ্চিত গৌরীপুরের জনগণ উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ২০০৮ সনের সংসদ নির্বাচনে ক্যাপ্টেন মজিবকে দু’হাত উজাড় করে ভোট দেন। যে কারণে প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে তিনি ১ লাখ ১ হাজার ভোট বেশি পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন, যা সারাদেশের মধ্যে ভোটের ব্যবধানের সেরা দশে অবস্থান করে। সৎ, নিষ্ঠাবান ক্যাপ্টেন মজিব তখন ১৫ বছর পর সরকার দলীয় এমপি। দলীয় সুযোগ-সুবিধা তিনি সবটাই তৃণমূল নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের মাঝে বিতরণ করতেন। তাছাড়া সে সময় তার মানবিক মূল্যবোধও ছিল প্রশ্নাতীত। যে কারণে দলীয় একটি ফান্ড গঠন করার লক্ষ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এমপির বরাদ্দকৃত টিআর, কাবিখা থেকে টনপ্রতি ১ হাজার টাকা ওই একাউন্টে জমা করে সেখান থেকে তিনি প্রয়োজন মাফিক দুস্থ, অসহায় আওয়ামী লীগ পরিবারের মাঝে প্রয়োজন অনুসারে বিতরণ করতেন। সে সময় অসুস্থ বা দুস্থ নেতাকর্মীদের তার কাছে টাকার জন্য ধরনাও দিতে হতো না। অন্য কারো মাধ্যমে শুনলেও তিনি তা ওই কর্মীর বাড়িতে টাকা পৌঁছে দিতেন।
রামগোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বাদল বাবু, রসুলপুর নূর খালেকের পরিবারসহ অসংখ্য পরিবার সেখান থেকে সহায়তা পেয়েছেন। তাছাড়া সমগ্র রাজনৈতিক কর্মসূচির খরচ তিনি ওই ফান্ড থেকেই খরচ করতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের প্রায় ৬ মাস পর তাকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেয়ার পর একটু একটু করে পাল্টে যেতে থাকে পরিস্থিতি। শুরুতে তিনি সৎ থাকার চেষ্টা করার পরও একসময় তিনি পরাজিত হতে বাধ্য হন। তাকে ঘিরে থাকা নিয়োগ, বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেটের কারণে নীতি-নৈতিকতার  কাছে পরাজয় দ্রুততর করে। যদিও নিয়োগ বাণিজ্যের মোট টাকার ১০ ভাগও তিনি পেতেন কিনা তা নিয়ে সকলেরই সন্দেহ আছে। এমন অবস্থায় ভুটান সফরকালে তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। সিঙ্গাপুর চিকিৎসা শেষে ফিরে আসলে তিনি কিছুটা মস্তিষ্ক বিকৃতির মতো আচরণ করতে থাকেন। প্রায় কোনো কিছুই তিনি মনে রাখতে পারতেন না। এ সুযোগে একটি সিন্ডিকেট তার একটি দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে। সিন্ডিকেটটি এতোটাই শক্তিশালী ছিল যে, ক্যাপ্টেন মজিবের সুপারিশকৃত (ডিও লেটার) তালিকা থেকে বাদ দিয়ে তারা তাদের পছন্দমতো প্রার্থীদের চাকরির নিয়োগ দিতো। যে কারণে তাকে প্রায়শই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো। এ ছাড়া মন্ত্রিত্ব থাকার কারণে চারপাশ থেকে জোয়ারের মতো টাকা আসলেও তিনি তা সেভাবেই উড়িয়ে দিতেন। টাকা-পয়সার ব্যাপারে তিনি আজীবন উদাসীন ছিলেন। যে কারণে সিন্ডিকেটের সদস্যরা উল্টো মন্ত্রীর কাছে টাকা পায় বলে প্রচার দেয়। এমনাবস্থায় তার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু চত্বরের কাজ শুরু করেন তিনি। একই সাথে পররবর্তী নির্বাচনী প্রস্তুতিও নিতে হয়েছে তার। কিন্তু ক্ষমতার শেষ সময়ে কতিপয় সিন্ডিকেটের দু’একজন ছাড়া বাকিরা নিরাপদ দূরত্বে চলে যায়।
অন্যদিকে ২০০৮ সনের নির্বাচনে তার মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে শংকা দেখা দেয়। বিএনপিবিহীন একতরফা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলেও অখ্যাত এক ভদ্রমহিলা নাজনীন আলম, যার একমাত্র পরিচয় ব্যাংকার ফেরদৌস আলমের স্ত্রী। এ পরিচয়ের বাইরে গৌরীপুরে নাজনীন আলম সে সময় সম্পূর্ণ অপরিচিত মুখ। এমনকি তিনি ্এলাকার ভোটারও ছিলেন না। আওয়ামী লীগের বিশাল বাহিনীর অদৃশ্য আশীর্বাদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ করলেন ক্যাপ্টেন মজিবকে। দিন দিন অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে নাজনীন আলমের জনপ্রিয়তা। এ অবস্থায় ময়মনসিংহে জায়গা বিক্রি করে আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে নির্বাচনী মাঠে নামলেন তিনি। বিভিন্ন নাটকীয়তার পর ক্যাপ্টেন মজিব বিজয়ী হলেও অখ্যাত এক মহিলার কাছে তার এমন নাস্তানুবাদ তিনি মেনে নিতে পারেননি। তিনি ধারণা করেন, যেখানে ১৫৩জন এমপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সেখানে তাকে নাজনীন আলমের সাথে নির্বাচন করে প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ, এটা তিনি মেনে নিতে পারেননি।
মন্ত্রিসভা গঠিত হলে সেখানেও তিনি স্থান পাননি। এ সুযোগে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ শেখরের ভুয়া পরিচয়ে এক প্রতারক চক্র মন্ত্রিত্ব পাবার লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় প্রায় কোটি টাকা। অন্যদিকে টাকার অভাবে তার স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু চত্বরের কাজ থেমে যাওয়ার পথে। কিন্তু মন্ত্রী না থাকায় তার টাকার উৎস্য প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় এসে হাজির হয় স্থানীয় অপর আরেকটি চক্র, যারা চাঁদাবাজি, জমি দখল থেকে শুরু করে বিদ্যুতের ডিও লেটারের নামেও মানুষের কাছ থেকে এমপির না করে প্রকাশ্যে টাকা নেয়া শুরু করে। উপজেলার যে কোনো জায়গায়, যে কোনো নিয়োগে আগে তাদের সাথে সেটেল করতে হয় এমপি সাহেব কত পাবেন। এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদলি, আনন্দ স্কুলের শিক্ষক নিয়োগে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন তার নিযুক্ত বিশেষ কতিপয় ব্যক্তি, যা ছিল সকলের কাছে ওপেন সিক্রেট। কিন্তু এত কিছুতেও তার টাকার চাহিদা পূরণ হচ্ছিল না। তিনি পুনরায় বিক্রি করেন ময়মনসিংহের অত্যন্ত মূল্যবান কয়েকটি জায়গা। ওই টাকায় তিনি বঙ্গবন্ধু চত্বরের কাজ দ্রুতগতিতে শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু চত্বর নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ১ টাকার জায়গায় ৩ টাকা খরচের বাউচারের পাশাপাশি পরিকল্পনাহীন হওয়ার কারণে একবারের কাজ ভেঙে একাধিবার করায় তা নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যায় বহু গুণ। যে কারণে টাকার জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। সে সময়ে বোকাইনগর মাদ্রাসার ২টি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি জানতে পান সেখানে প্রচুর টাকার লেনদেন হয়েছে। তিনি তার মনোনীত গভর্নিং বডির তৎকালীন সভাপতির নিকট বঙ্গবন্ধু চত্বরের সহযোগিতার জন্য ওই টাকা থেকে ২ লাখ টাকা দিতে বলেন। কিন্তু গভর্নিং বডির সভাপতি জানান, ওই নিয়োগ দায়িত্বে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, যে ২০০৮ সনের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজনীন আলমের পক্ষাবলম্বনের কারণে আগে থেকেই তিনি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদসহ অনেকের উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। মাদ্রাসার নিয়োগ থেকে কোনো টাকা নেয়া হয়নি, কাজেই ১ টাকাও দেবার প্রশ্ন আসে না। এমন সিদ্ধান্তের কথা অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন মাধ্যমে ক্যাপ্টেন মজিবকে জানালে চরম ক্ষিপ্ত হন তিনি। যার জের ধরে কলতাপাড়ায় লাঞ্ছিত হন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ওই ঘটনা গৌরীপুরসহ সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
বঙ্গবন্ধু চত্বরের কাজ ৭০ ভাগ শেষ হওয়া অবস্থায় তিনি সিদ্ধান্ত নেন ‘সেবালয়’ নামক নিজ ভূমিতে তিনি নির্মাণ করবেন দেশের সর্ববৃহৎ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। কিন্তু টাকা কোথায়? পুনরায় বিক্রি করলেন কয়েক কোটি টাকার ময়মনসিংহের অপর একটি জমি। কলতাপাড়ায় শুরু করেন দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিকৃতি নির্মাণের কাজ। প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিকৃতির অধিকাংশ কাজই তিনি শেষ করে ফেলেন। র্এই মাঝে নতুন আইডিয়া জন্মায় তার মাথায়। সিদ্ধান্ত নেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির পাশে তিনি তৈরি করবেন ‘মা ও শ্বাশুড়ি বৃদ্ধাশ্রম’ এবং সেখানে জাতির জনকের প্রতিকৃতির পাদদেশে নির্মাণ করেন তার নিজের কবর। টাকার জন্য পুনরায় ময়মনসিংহে নিজের জমি বিক্রি করতে গিয়ে পরিবার কর্তৃক বাধাগ্রস্ত হন তিনি। চারপাশে খুঁজতে থাকেন টাকার উৎস। এমপি হিসেবে প্রাপ্ত টিআর, কাবিখার বরাদ্দের টাকাও তিনি অগ্রিম নিয়ে নিয়েছেন। অথচ বঙ্গবন্ধু চত্বর, কলতাপাড়ায় ভাস্কর্য, বৃদ্ধাশ্রম-এর কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় টাকা পাঠানোসহ তার বিশেষ ‘এইট্টি বাহিনীর’ খরচ চালিয়ে যাওয়া তার জন্য দুরুহ হয়ে পড়ে। এ সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়রে দপ্তরি নিয়োগের জন্য সার্কুলার হলে তার মনোনীত বিশেষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে দপ্তরি চাকরির জন্য শুরু করেন টাকা নেয়া। পাশাপাশি এ সময়ে ইউপি নির্বচনে চেয়ারম্যান মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রেও তিনি একটি বড় অংকের টাকা গ্রহণ করেন, যা দিয়ে বঙ্গবন্ধু চত্বর ও কলতাপাড়ায় ভাস্কর্যের নির্মাণ কাজের ৯০ ভাগ সম্পন্ন করতে পারলেও বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করতে পারেননি তিনি। এ অবস্থায় ২ মে মৃত্যুবরণ করেন গৌরীপুরপ্রেমী আজীবন মুজিবভক্ত এই মানুষটি।
ক্যাপ্টেন মজিব কেমন মানুষ ছিলেন তা নির্ধারণ করবে ভবিষ্যত প্রজন্ম। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, তাকে ছাড়া গৌরীপুরের ইতিহাস হবে অসম্পূর্ণ। ঢাকা, ময়মনসিংহে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রেখে প্রায় দিনই না খেয়ে বা কখনো এক মুঠো মুড়ি আর চা খেয়ে পুরাতন ভাঙা জিপ নিয়ে  সকাল ৮টা থেকে রাত অবধি গ্রামান্তরে ছুটে চলা মানুষটি আর কোনোদিনও ফিরে আসবেন না এ পৃথিবীতে, তার প্রিয় গৌরীপুরে। কিন্তু রয়ে যাবে তার অজ¯্র কীর্তি, স্মৃতি ও ইতিহাস। গৌরীপুরের সকল অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, দুটি কলেজে অনেক বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুকরণ, প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপনসহ বঙ্গবন্ধু চত্বর, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, নেতাকর্মীদের কবর পাকাকরণ, বঙ্গবন্ধু চত্বরের মূল বেদীর বাইরে স্থাপিত প্রবীণ নেতৃবৃন্দের ভাস্কর্য এবং অসংখ্য স্থাপনার উন্নয়ন কর্মকা-ের মাঝে বেঁচে থাকবেন তিনি।
তার সর্বশেষ স্বপ্ন ছিল গৌরীপুর জেলা বাস্তবায়ন। সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দসহ নতুন প্রজন্মকে এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে। সোচ্চার হতে হবে ক্যাপ্টেন মজিব কর্তৃক নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে। দায়িত্ব নিতে হবে তার শুরু করে যাওয়া ‘মা ও শাশুড়ি বৃদ্ধাশ্রম’ সমাপ্ত করার।
ক্যাপ্টেন মজিব আর ফিরবেন না কোনোদিন। মুত্যুর পূর্বে তিনি বঙ্গবন্ধু চত্বরে নিজ খরচে পবিত্র মাহে রমজানে উন্মুক্ত ইফতারির ব্যবস্থা করেছিলেন। সেখানে প্রতিদিন ছিন্নমুল মানুষসহ গড়ে প্রতিদিন ৫ শতাধিক মানুষ ইফতারি করতেন। ক্বেরাত, আজান, প্রতিযোগিতার আয়োজকও ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর পর সবকিছু থমকে গেছে। আমার অনুরোধ থাকবে, তার ভালো কাজগুলোর মূল্যায়ন করা হোক। সকলে মিলে চেষ্টা করলে তা অবশ্যই সম্ভব বলে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি। পরিশেষে মহান এ নেতার ২য় মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আজকের লেখা শেষ করছি।
লেখক : সম্পাদক, রাজগৌরীপুর।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
 
A- A A+ Print this E-mail this
আপনার পছন্দের এলাকার সংবাদ
পড়তে চাই:
Fairnews24.com, starting the journey from 2010, one of the most read bangla daily online newspaper worldwide. Fairnews24.com has the highest journalist among all the Bangladeshi newspapers. Fairnews24.com also has news service and providing hourly news to the highest number of online and print edition news media. Daily more then 1, 00,000 readers read Fairnews24.com online news. Fairnews24.com is considered to be the most influencing news service brand of Bangladesh. The online portal of Fairnews24.com (www.fairnews24.com) brings latest bangla news online on the go.
৪৮/১, উত্তর কমলাপুর, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন : +৮৮ ০২ ৯৩৩৫৭৬৪
E-mail: info@fns24.com
fnsbangla@gmail.com
Maintained by : fns24.net