তাজা খবর:

বগুড়ায় উপুর্যূপরি ছুরিকাঘাতে দম্পতি খুন                    নিবন্ধনের আশায় দক্ষিণ চট্টগ্রাম ছাড়ছে রোহিঙ্গারা                    দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে পারের অপেক্ষায় শত শত যানবাহন                    অভয়নগরে ভৈরব নদে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত                    যশোরের অজ্ঞাত পরিচয় তরুণীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার                    বিশ্ব জনমত ঘুরছে: কৃষিমন্ত্রী                    নকলা উপজেলা চেয়ারম্যানের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার                    কাহারোলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাইভেট কারের চালক সহ নিহত ৩                    গৌরীপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর সম্ভ্রমের মূল্য দুই কাঠা জমি!                    বিষমুক্ত সবজির হাট মনোয়ারা বেগমের বাড়ি                    
  • রবিবার, ২২ অক্টোবর ২০১৭, ৬ কার্তিক ১৪২৪

বলিভিয়ার গোলকিপারের প্রশংসায় ব্রাজিল কোচ

বলিভিয়ার গোলকিপারের প্রশংসায় ব্রাজিল কোচ

আর্জেন্টিনার মত দুরাবস্থায় না পড়লেও বাছাইপর্বের ম্যাচে একটা ধাক্কা খেয়েছে শিরোপার অন্যতম

চিংড়ির বহু গুণ

চিংড়ির বহু গুণ

চিংড়ি শুধু সুস্বাদু খাবারই নয়, এর বহু গুণও রয়েছে। কিন্তু অনেকেরই চিংড়ির এসব গুণের কথা

তরমুজের বীজ খেলে পাবেন এই বিস্ময়কর উপকারিতাগুলো!

তরমুজের বীজ খেলে পাবেন এই বিস্ময়কর উপকারিতাগুলো!

আচ্ছা কে আমাদের শিখিয়েছে বলুন তো এটা ভাল নয়, ওটা ভাল নয়!

মাংশের টুকরোত আল্লাহর নাম

মাংশের টুকরোত আল্লাহর নাম

কোন কাল্পনিক গল্প নয়, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য পাবনার আটঘরিয়ায় কোরবানির মাংশের একটি টুকরোও

ফুটপাতে ফুলের গল্প

প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

মাহমুদুল বাসার

27 Aug 2017   07:33:08 PM   Sunday BdST
A- A A+ Print this E-mail this
ফুটপাতে ফুলের গল্প প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

জনপ্রিয় কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেছেন, ‘গত মঙ্গলবার (২২/৮/১৭) মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আমারও টেলিফোনে আলাপ হয়েছে। তাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করেছি এই বিবাদে দেশে একটি রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির সুযোগ যেন কেউ না পায়। তিনি বলেছেন, আমার রায়টি আপনারা পড়ে দেখুন,তাহলেই দেখবেন জাতির পিতার অবমাননা আমি করিনি। বরং জিয়াউর রহমান সম্পর্কে কটু মন্তব্য করেছি।’ (জনকণ্ঠ-২৬/৮/১৭)।
    এরওতো কোনো প্রয়োজন ছিলো না। রাজনীতি বিতর্কিত বিষয়। বিচারকের আসনে বসে কারো সম্পর্কে ‘কটু মন্তব্য’ করলে বিপদ ঘনিয়ে আসতে দেরি হয় না। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতি তার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিএনপিকে গর্ত থেকে তুলে এনেছেন।’ প্রবীণ রাজনীতিবিদ, প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান না বুঝে কথাটি  বলেন নি। গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘ বঙ্গবন্ধুর আসল খুনীরা আড়ালে রয়ে গেছে।’ এই বক্তব্যের ভেতরেও ধারালো বিতর্ক আছে। যাদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে এবং ফাঁসির দ- মাথায় নিয়ে যারা বিদেশে পলাতক তারা আসল খুনী নয়? তাহলে কাদের বঙ্গবন্ধুর আসল খুনী মনে করছেন প্রধান বিচারপতি? এ ধরনের বক্তব্য মারাত্মক বিতর্ক তৈরি করবে। এ ধরনের মীমাংসিত বিষয়গুলোকে বিতর্কের বাতাসে ছেড়ে দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করা মোটেও ঠিক নয়। অন্তত বিচারকের আসনে বসে এ ধরনের রাজনৈতিক কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।
   বিচারপতি খায়রুল হক অন্যায্য কথা বলেন নি যে, ‘রাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনো রায় লেখা যায় না। বর্তমান প্রধান বিচারপতি রায-বিরাগ বা অনুরাগের বশবর্তী হয়ে যদি ষোড়শ সংশোধনীর রায় লিখে থাকেন তাহলে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন।’ এ কথা প্রধান বিচারপতি অস¦ীকার করতে পারবেন না যে, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে জাতীয় সংসদ সম্পর্কে, নারী সাংসদ সম্পর্কে, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যে সব কথা বলেছেন, তা পুরোটাই রাজনৈতিক বক্তব্য এবং তাতে একদল আহত হয়েছে অন্যদল উল্লসিত হয়েছে। এতে তিনি একদলের পক্ষে পড়েছেন অন্য দলের বিপক্ষে পড়েছেন। প্রধান বিচারপতি একটি সাংবিধানিক পদ। সংবিধান সংসদে তৈরি হয়েছে। সংসদে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ তারাই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। সে স্থলে সংসদকে, সংসদ নেত্রীকেই কনডেম করে কথা বলে তার প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দেয়া অযৌক্তিক বলেই মনে করি, অন্তত বিচারকের আসনে বসে তা করা যায় না।
   প্রধান বিচারপতি চট করে পাকিস্তানের প্রসঙ্গটি টেনে এনে বললেন, ‘অনেক ধৈর্য ধরেছি।’ মারাত্মক কথা এটি। প্রধান মন্ত্রীকে হুমকির পর্যায়ে পড়েছে কথাটি। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠিতে বলেছেন, ‘পাকিস্তান একটি দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র। পাকিস্তান এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে সেনা বাহিনী  আর বিচারপতিরা এক সাথে বসে পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ধারণ করে। জনগণ সেখানে মূল্যহীন। পাকিস্তান এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ পান সেনাবাহিনীর সার্টিফিকেটে। সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় সেনা প্রেসক্রিপশনে।’ (আমার সংবাদ-২৩/৮/১৭)।
ওমর ফারুক চৌধুরীর কথা ফেলে দেবার মতো নয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ থেকে আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রী তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। সেখানে কোনো সিভিল সমাজ নেই। কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন নেই। সেখানে আছে সেনাবাহিনী ও তালেবানরা। সেখানে সংসদ এবং বিচার বিভাগ কোনোটাই স্বাধীন নয়। আমেরিকা যে ভাবে পাকিস্তানকে কথায় কথায় হুমকি দেয়, তাতে প্রমাণিত হয় পাকিস্তান কোনো স্বাধীন দেশ নয়। সেই দেশের তুলনা দেয়া কি ঠিক হয়েছে? নওয়াজ শরীফের পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারির সঙ্গে শেখ হাসিনার তুলনা করা কি ঠিক হয়েছে। প্রধান বিচারপতি হয়তো জানেন যে, কালো টাকা সাদা করেছেন বেগম জিয়া এবং ড, কামাল হোসেন, শেখ হাসিনা এই কাজটি করেন নি। প্রধান বিচারপতি কিন্ত বিতর্ক থামানোর পরিবর্তে বাড়িয়ে চলেছেন। তার বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে বিএনপি সরকারকে ঘায়েল করার রসদ পাচ্ছে।  বিএনপি ও আওয়ামীলীগ বিপরীত আদর্শের দু’টি মুখোমুখি দল। এর মধ্যে  আবার একদল মাঠে নেমেছেন শেখ হাসিনার ওপর প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে জনগণের উপকারের চেয়ে অপকার হবে বেশি। একলাফে যুদ্ধাপরাধী সাঈদী জেল থেকে বেরিয়ে আসবে। দেশের সর্বনাশের ঘন্টাধ্বনি বেজে উঠবে।
   আর বাঙালি জাতির দুর্ভাগ্য যে,  এই মহাশোকের মাসে প্রধান বিচারপতি ষোড়শ সংশোধনীর রায় দিলেন, তার সঙ্গে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বিতর্কের ঝড় তুললেন। এই আগস্ট মাসে পরপর তিনটি দিন সাংঘাতিক স্পর্শকাতরÑ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট, ২১ আগস্ট। এই তিনটি দিন সম্পর্কে বিএনপির বক্তব্য অত্যন্ত উস্কানিমূলক। বিএনপির প্রষ্ঠিাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জড়িত, বিভিন্ন গবেষণায় তা উঠে এসেছে, সেনাবাহিনীর অফিসাররা বই লিখে তার প্রমাণ দিয়েছেন। আর ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা হয়েছে তারেক জিয়ার হাওয়া ভবনে, এটা প্রমাণিত সত্য। এ প্রসঙ্গে একটি জাতীয় পত্রিকার মন্তব্য, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিলো। আর ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামীলীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিলো। সেই ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছিলো। দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে কলঙ্কের দুই দিন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ে ঘুরে ফিরে আসছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নাম। আর জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং পরিকল্পনায় ঘটেছে ২১ আগস্ট। সবচেয়ে বড় দুই পলিটিক্যাল কিলিংয়ে বিএনপি সরাসরি সম্পৃক্ত।’  (জনকণ্ঠ-২৫/৮/১৭)।
  অথচ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন সম্প্রতি একটি টেলিভিশনে ২১ আগস্ট আওয়ামীলীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলাকে ‘সিম্পল’ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি কোনো ক্ষতিই না। সিম্পল ঘটনা। এটা নিয়ে এখন আলোচনার কিছু নাই। দেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে পুরাতন কথা মনে রেখে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। কেউ মনে রাখে না। ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের মতো ঘটনা নিয়ে কেউ সারা জীবন কান্না কাটি করে না।’ (জনকণ্ট-২০/৮/১৭)।
    আর বিএনপির নিত্যদিনের ভাষ্যকার রিজভী বলেছেন, ‘২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং পিলখানা হত্যাকা- আওয়ামীীগের সৃষ্টি। আওয়ামীলীগকে বলা হয়েছিলো মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করতে। তারা কেন পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ করলেন? এটা আওয়ামীলীগের লোকেরাই ঘটিয়েছেন।’ (আমার সংবাদ-২৬/৮/১৭)। আর তারেক রহমান লন্ডনে বসে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেছেন তা আর উল্লেখ করতে চাই না। ধরে নিতে পারি তারেকের কথা বিএনপিরই কথা। এ সব বক্তব্য থেকে প্রধান বিচারপতি সহজেই বুঝতে পারছেন, দল দু’টোর বিপরীতমুখী অবস্থানটা কী রকম? এর মধ্যেই তিনি ষোড়শ সংশোধনীর রায় দিলেন এবং রায়ের পর্যবেক্ষণে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বিএনপির মুখে খই ফোটার সুযোগ করে দিলেন।
    ২৫/৮/১৭ তারিখের জাতীয় পত্রিকাগুলোতে দেখেছি, প্রধান বিচারপতি এবং ড. কামাল হোসেন একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন। সে অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন সরকারকে ইঙ্গিত করে হুমকির ভাষায় কথা বলেছেন। বিএনপির আইনজীবীরাও ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন এবং বক্তৃতা দিয়েছেন। ব্যাপারটা আমাদের কাছে রীতিমত অস্বস্তিকর লেগেছে। যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হয়, সেখানে প্রধান বিচারপতির থাকার প্রাসঙ্গিকতা খুব কম। তিনি যদি রাজনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে থাকেন তাহলে পরিবেশ উত্তপ্ত হবে। তিনি যদি ক্রমাগত নিজের পক্ষে কথা বলতে থাকেন, পর্যবেক্ষণে যা বলেছেন তার পক্ষে যুক্তি দিতেই থাকেন তাহলে দেশের অনাকাক্সিক্ষত উত্তেজনা কিছুতেই থামবে না। আদালত প্রাঙ্গণের উত্তাপ সহজে থামবে না। সামনে নির্বাচন। একটি সুস্থ পরিবেশ একান্ত কাম্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। প্রধান বিচারপতি যদি উত্তপ্ত বিতর্ক থামানোর কৌশল অবলম্বন না করেন তাহলে দেশে অমঙ্গলের অগ্নিশিখা জ্বলে উঠবে।
মাহমুদুল বাসার
কলাম লেখক, গবেষক

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
 
A- A A+ Print this E-mail this
আপনার পছন্দের এলাকার সংবাদ
পড়তে চাই:
Fairnews24.com, starting the journey from 2010, one of the most read bangla daily online newspaper worldwide. Fairnews24.com has the highest journalist among all the Bangladeshi newspapers. Fairnews24.com also has news service and providing hourly news to the highest number of online and print edition news media. Daily more then 1, 00,000 readers read Fairnews24.com online news. Fairnews24.com is considered to be the most influencing news service brand of Bangladesh. The online portal of Fairnews24.com (www.fairnews24.com) brings latest bangla news online on the go.
৪৮/১, উত্তর কমলাপুর, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন : +৮৮ ০২ ৯৩৩৫৭৬৪
E-mail: info@fns24.com
fnsbangla@gmail.com
Maintained by : fns24.net