তাজা খবর:

গজারিয়ায় সিএনজি পাম্পে আগুন, আহত-৪                    তাস খেলতে বসতে না দেয়ায় শিক্ষার্থীদের মারধর করেছে ছাত্রলীগ                    জালনোট কারখানার সন্ধান বিপুল পরিমাণ জাল টাকা-রুপিসহ ব্যবসায়ী আটক                    ডিমলায় প্রতিমা ভাংচুড়ের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ সুপার                    কলারোয়ায় আগুনে পুড়ে ৪টি দোকান ভস্মীভূত                    রাসিক নির্বাচনের ৩৭দিন পর ফল বাতিল চেয়ে বুলবুলের মামলা                    চৌগাছায় প্রসূতির পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ                    চার পিস ইয়াবা হয়ে গেল ১৪ পিস!                    রাউজানে গণপিটুনিতে ২ চোর মারা গেছে                    নানা সমস্যায় জর্জরিত বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন                    
  • বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

একই পরিবারের পাঁচজন বিরল প্রকৃতির রোগে আক্রান্ত

একই পরিবারের পাঁচজন বিরল প্রকৃতির রোগে আক্রান্ত

সোনারগাঁয়ে একই পরিবারের পাঁচজন বিরল প্রকৃতির রোগে আক্রান্ত হয়ে পরেছে। অর্থাভাবে সুচিকিৎসা নিতে

সুজানগরে বহুমুখী খামার করে স্বাবলম্বী যুবক মামুন

সুজানগরে বহুমুখী খামার করে স্বাবলম্বী যুবক মামুন

সুজানগরে বহুমুখী খামার করে মামুন হোসেন নামে এক যুবক স্বাবলম্বী হয়েছেন। তিনি উপজেলার

বরিশালে ভাসমান পাটের হাট ॥ অপার সম্ভাবনা

বরিশালে ভাসমান পাটের হাট ॥ অপার সম্ভাবনা

ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে প্রায় ৫০ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে জেলার তিনটি উপজেলার সীমান্তবর্তী

অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে স্কুল ছাত্রী ইতি

অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে স্কুল ছাত্রী ইতি

অর্থাভাবে বিনাচিকিৎসায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে বেঁচে থাকার জন্য ছটফট করতে থাকা মেধাবী স্কুল

সামুরাই ব্লুজ, ফেয়ার প্লে ও স্পাসিবা

এফএনএস অনলাইন

04 Jul 2018   04:41:40 PM   Wednesday BdST
A- A A+ Print this E-mail this
 সামুরাই ব্লুজ, ফেয়ার প্লে ও স্পাসিবা

দুঃখের মাঝে আমরা অনেক সময় আমাদের কর্তব্যবোধের কথা ভুলে যাই। খুব খুশির সময় আনন্দের  আধিক্যেও আমরা ভুলে যেতে পারি দায়িত্ববোধের কথা। আমাদের কাছে এটা অস্বাভাবিক কোনো ব্যাপার নয়। কিন্তু দায়িত্ব, কর্তব্যবোধ এবং কর্মনিষ্ঠা যাদের কাছে প্রবল; আবেগ প্রকাশের সময়ও তারা সেখানে পরিমিতিবোধের পরিচয় দেন। জাপানিরা ঠিক এমনই। যাদের কাছে আবেগ কর্তব্যবোধের কাছে পরাজিত হয়। আবার দুঃখও তাকে তার দায়িত্ববোধ থেকে সরাতে পারে না।

এবারের বিশ্বকাপে উত্তেজনা বেশি। প্রথম রাউন্ড থেকেই অঘটন শুরু হয়েছে। অবশ্য একে অঘটন বললে  যারা ভালো খেলে ‘কথিত’ এসব ফুটবল পরাশক্তিকে ধরাশায়ী করছে, তাদের শক্তিমত্তাকে ছোট করা হয় বলেই আমার মনে হয়। কারণ ভালো খেলা আচমকা খেলা যায় না। এর জন্য দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা প্রণয়ন, সুষ্ঠুভাবে তার বাস্তবায়ন এসবেরও প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় খেলার মান উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিক একাগ্রতা। এসবের ফলেই একসময় উঠতি শক্তির দেশগুলো ধীরে ধীরে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে সমর্থ হয়েছে। ফলে তাদের জয়কে এখন আর তাই অঘটন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

ফুটবলে আমাদের এশিয়ার দেশগুলোর অবস্থান তেমন ভালো নয়। এই যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান বা সৌদি আরব এশিয়ার শ্রেষ্ঠ হলেও লাতিন আমেরিকা বা ইউরোপের দেশগুলোর চেয়ে ফুটবলে অনেক পিছিয়ে। এর ভেতরে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ইরানের অবস্থান সবার উপরে, ৩৬তম। ফলে এশিয়া অঞ্চলের কোনো দেশ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হবে—নিকট ভবিষ্যতে সেটা দেখতে পাব বলে মনে হয় না। কারণ আরো বিস্তর উন্নতির বাকি আছে।

এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপে জাপান এক অনন্য নজির স্থাপন করল। ‘ফেয়ার প্লে’ নামক শব্দটি এতদিন শুনতাম। অর্থাৎ, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিয়ম মেনে ফুটবল খেলা, শারীরিক শক্তি প্রয়োগ না করা, ফাউল কম করা—এ সবই ফেয়ার প্লের অংশ। এবার সে ফেয়ার প্লের বাস্তব প্রয়োগও দেখলাম। ফেয়ার প্লের সুযোগ নিয়ে জাপান সেনেগালকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে যায়। এই দুই দলের গোল সংখ্যা, গোল ব্যবধান সমান হলও জাপানি খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের চেয়ে দুটো হলুদ কার্ড কম পাওয়ায় ফেয়ার প্লের নিয়মে জাপান দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে যায়। তার আগে প্রথম রাউন্ডে প্রথমবারের মতো কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোনো এশীয় দেশ হিসেবে লাতিন আমেরিকার দেশকে পরাজিত করে জাপান এক অনন্য নজির স্থাপন করে।

দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপান ২ গোলে এগিয়ে থেকেও ২-৩ ব্যবধানে শেষ অবধি বেলজিয়ামের কাছে পরাজিত হয়। এটা রীতিমতো অবাক করা ব্যাপার। জাপান বেলজিয়ামের কাছে হেরে যেতে পারে—সেদিন যারা টিভি সেটের সামনে বসে খেলা দেখেছেন সেটা হয়তো তারা কল্পনাও করতে পারেননি। কারণ জাপান শুরু থেকেই দারুণ ফুটবল খেলছিল। ফলে এমন অভাবিত হারার পরে জাপানের সমর্থকদের মন ভীষণভাবে খারাপ হবে সেটাই স্বাভাবিক। হয়েছেও তাই। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে, প্রথম রাউন্ডের প্রতিটা ম্যাচে যেভাবে জাপানি দর্শকরা খেলা শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করে মাঠ ছেড়েছে, বেলজিয়ামের সঙ্গে দুঃখজনক বিদায়ের পরেও মাঠ পরিষ্কার করতে তারা ভুল করেননি। আবেগের কাছে কর্তব্যবোধকে তারা পরাজিত হতে দেননি। শুধু তা-ই নয়, জাপানি প্লেয়াররা তাদের ড্রেসিংরুমকে পরিষ্কার করে পরিপাটি করে সাজিয়ে রাশিয়ান ভাষায় কাগজের ফোল্ডারে লিখে রেখেছেন ‘স্পাসিবা’, বাংলায় যার অর্থ হচ্ছে ধন্যবাদ।

সবকিছুর জন্যেই তারা ধন্যবাদ জানিয়েছে রাশিয়ান কর্তৃপক্ষকে। ফেয়ার প্লের সঙ্গে কর্তব্যবোধের এমন সমন্বয় জাপানিদের দ্বারাই সম্ভব। তাই হয়তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই জাপান নতুন করে তাকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

এক দিনে কোনো জাতি বা দেশ উপরে উঠতে পারে না। কাজের প্রতি, সময়ের প্রতি নিষ্ঠা এবং কর্তব্যবোধ মানুষ শেখে তার পূর্বসূরিকে দেখে। জাপান তাদের দেশের মানুষকে সেটা ছোটবেলা থেকেই শেখাতে পেরেছে। এখন তা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। স্কুল থেকেই তারা এসব শিক্ষা দিতে শুরু করে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরকে পড়ালেখা নয়, বরং সেখানে শেখানো হয় শৃঙ্খলা, কাজের প্রতি নিষ্ঠা। শেখানো হয় আদব-কায়দা, নিয়ম-কানুন—যেগুলো বড় হয়ে  শিশুকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহযোগিতা করে। আর সেখানে আমরা কচিকাঁচা ছেলে-মেয়েদেরকে শেখানো শুরু করি বইয়ের বুলি। স্কুল মানে ছোটদের কাছে বিনোদন নয়, বরং হোমওয়ার্কের এক বাড়তি চাপ। বড় হয়ে সমাজ বা রাষ্ট্র গঠনের কাজে শিশুটি কীভাবে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে সেসব শিক্ষা না দিয়ে শেখানো শুরু হয় কীভাবে জিপিএ-৫ পাওয়া যায়। মূলত উন্নত দেশের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য এখানেই। ফলে রাষ্ট্র থেকে শুরু করে পারিবারিক শিষ্টাচার, কর্তব্যবোধ, দায়িত্ববোধের সব জায়গাতেই আমাদের ঘাটতি দেখা যায়।

এখান থেকে বের হয়ে আসার শুরুটা তাই শিক্ষাঙ্গন থেকেই শুরু করতে হবে। জিপিএভিত্তিক পড়ালেখা নয়, বরং ছোটদেরকে ভালো কাজের অভ্যাস শেখানোর দিকে আমাদেরকে মনোযোগী হতে হবে। আর আমরা যারা নিয়ম না মানতে মানতে প্রায় না-মানাকেই স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করেছি, সেটা থেকে বের হয়ে আসার ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। সেই সঙ্গে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে তা অভ্যাসে পরিণত হবে। আর একবার অভ্যাসে পরিণত হলে তো মানুষ সেটা স্বাভাবিক নিয়মেই করতে শুরু করবে।

সামুরাই ব্লুজদের কাছ থেকে তাই আমাদের শিক্ষা নেওয়ার আছে অনেক কিছু।

[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রিয়.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে প্রিয়.কমের সম্পাদকীয় নীতির

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
 
A- A A+ Print this E-mail this
আপনার পছন্দের এলাকার সংবাদ
পড়তে চাই:
Fairnews24.com, starting the journey from 2010, one of the most read bangla daily online newspaper worldwide. Fairnews24.com has the highest journalist among all the Bangladeshi newspapers. Fairnews24.com also has news service and providing hourly news to the highest number of online and print edition news media. Daily more then 1, 00,000 readers read Fairnews24.com online news. Fairnews24.com is considered to be the most influencing news service brand of Bangladesh. The online portal of Fairnews24.com (www.fairnews24.com) brings latest bangla news online on the go.
৪৮/১, উত্তর কমলাপুর, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০
ফোন : +৮৮ ০২ ৯৩৩৫৭৬৪
E-mail: info@fns24.com
fnsbangla@gmail.com
Maintained by : fns24.net