fairnews24 Logo

পার্বতীপুরে ইরি-বোরো ধান ক্ষেতে ব্লাষ্ট রোগের আক্রমন

এফএনএস (সোহেল সানী; প্রতিবেদক দিনাজপুর) | 27 Apr 2017   05:43:06 PM   Thursday
 পার্বতীপুরে ইরি-বোরো ধান ক্ষেতে ব্লাষ্ট রোগের আক্রমন

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সর্বত্র ইরি-বোরো ধান ক্ষেতে নেক ব্লাষ্ট (ধানের গলা পচা রোগ) রোগ দেখা দিয়েছে। উপজেলা ১০টি ইউনিয়নে ইরি-বোরো ধান ক্ষেতে এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কৃষকেরা। ছত্রাক জাতীয় এ রোগের আক্রমনের ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে আক্রান্ত জমির শতকরা ২৫ ভাগ থেকে ৫০ ভাগ ফসল বিনষ্টের আশংকা করছেন কৃষকরা। প্রাথমিক অবস্থায় সঠিকভাবে রোগ সনাক্ত করতে না পারায় বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করেও কোন উপকার পায়নি ধান চাষিরা। ফলে অবস্থাপন্ন অনেক কৃষক সর্বশান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। উপজেলায় ধানের ফলন ভাল দেখা গেলেও হঠাৎ করে আবহাওয়ার প্রতিকূলতায় দ্রুততম সময়ে ছড়িয়ে পড়ছে এই নেক ব্লাষ্ট (ধানের গলা পচা রোগ)।
কৃষি অফিসের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইলিয়াছ ফারুক জানান, পার্বতীপুর উপজেলায় ১০ ইউনিয়নে ২৪ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো লাগানো হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান ২৮ ও ৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে মিনিকেট ও অবশিষ্ট ১৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে অন্যান্য জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ এ রোগ প্রতিরোধে কৃষকের মাঝে লিফলেট বিতরণসহ নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আক্রান্ত ক্ষেতে প্রতিষেধক হিসেবে জমিতে প্রতিরোধক হিসেবে কার্বান্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করছেন কৃষকরা। কিন্তু সংক্রামিত ধান ক্ষেতে ছত্রাক নাশক স্প্রে করেও কোনো কাজ হচ্ছে না কৃষকের। স্প্রে করার পরও এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো ধান ক্ষেতে। মূহুর্তেই ক্ষেতের ধান সাদা হয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের লিফলেট বিতরণ ও পরামর্শ মোতাবেক বোরো ক্ষেতে কার্বান্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে ওষুধের কার্যকারিতা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে ওষুধ প্রয়োগ এই রোগের জন্য প্রযোজ্য কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কৃষকরা।
পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক গোলবাদ হোসেন ও হাফিজুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের দেওয়া পরামর্শ মোতাবেক ধান ক্ষেতে ছত্রাক নাশক স্প্রে করেও কাজ হচ্ছে না। বিঘায় বিঘায় জমির ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। এতে আমরা কৃষকরা সর্বশান্ত হয়ে পড়ছি।
উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের কৃষক জাহাঙগীর আলম জানান, তার এক বিঘা জমির ইরি-বোরো ধান সাদা হয়ে চিটা হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ধান ক্ষেতে ওষুধ প্রয়োগ করে তার কোনো লাভ হয়নি। এমন কথা জানিয়েছেন আরও অনেকে। এ অবস্থায় এখানকার কৃষককে ও বোরো ফসল বাঁচাতে কৃষি বিভাগসহ সরকারের দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ কামনা করেছেন এখানকার কৃষকেরা।
সরেজমিন উপজেলার মোস্তফাপুর, চন্ডিপুর, রামপুর ও বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে এমন কোন ব্রি ধান- ২৮ ও মিনিকেট ধান ক্ষেত নেই, যেখানে এ রোগের সংক্রমন ঘটেনি। বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের বাঘাচড়া গ্রামের আলিমুদ্দিন মোস্তফাপুর ইউনিয়নের দন্ডপানি, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষকরা জানান এবং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর পলাশবাড়ী গ্রামের জমিতে এ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। পলাশবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর পলাশবাড়ী গোলবাদ হোসেন ৪ বিঘা জমিতে মিনিকেট ধান আবাদ করেছেন। কিন্তুু তাদের জমির ৫০-৬০ভাগ ফসল বিনষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন তারা।
এব্যাপারে পার্বতীপুর কৃষি কর্মকর্তা আবু ফাত্তাহ মোঃ রওশন কবির জানান, এটি একটি ছত্রাক জাতীয় রোগ। কৃষকদের আক্রান্ত ক্ষেতে ছত্রাক নাশক বিভিন্ন ধরণের ঔষধ ¯েপ্র করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও কৃষকদের মাঝে লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে। ছত্রাক নাশক ব্লাষ্টিন-০.৬০ গ্রাম, নাটিভো ৭৫ ডাব্লিউপি০.৬০ গ্রাম, ট্রুপার ৭৫ ডাব্লিউপি বা জিল ৭৫ ডাব্লিউপি-০.৮১ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে এবং এর সহিত কার্বান্ডাজিম গ্রুপের গোল্ডাজিম, গিলজিম, এমকোজিম নোইন, নিউজিম, ইউনিজুম, বাভিষ্টিন ও ব্যান্ডাজিম অনুমোদিত মাত্রায় মিশিয়ে দুপুরের পর স্প্রে করতে বলা হচ্ছে। প্রভৃতি ছত্রাক নাশক ঔষধ ব্যবহার করায় রোগটি বর্তমানে নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2018-10-16 এফএনএস২৪.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত।