fairnews24 Logo

এসেনসিওর ‘জাদু’ ব্যর্থ বেনজেমায়

এফএনএস স্পোর্টস | 28 Aug 2017   12:18:40 PM   Monday
 এসেনসিওর ‘জাদু’ ব্যর্থ বেনজেমায়

করিম বেনজেমা রিয়াল মাদ্রিদে কোন পজিশনে খেলেন? উত্তর আসবে স্ট্রাইকার। রিয়াল-সমর্থকদের জিজ্ঞেস করুন, উত্তর আসবে ‘অদৃশ্য কোনো পজিশনে’! একদিকে মার্কো এসেনসিও জাদু দেখাচ্ছন, দলকে জেতাতে সর্বস্ব দিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে দলকে ডুবিয়েই যাচ্ছেন বেনজেমা। এই ফরাসির কারণে লিগের দ্বিতীয় ম্যাচেই ধাক্কা খেল রিয়াল। ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে ঘরের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের ১০ মিনিটে জিনেদিন জিদানের মুখে স্মিত হাসি দেখা গেল। দুই হাত এক জায়গায় করে দিলেন মৃদু হাততালি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এক খেলোয়াড়। তারপরও বাড়তি কোনো উল্লাস নেই জিদানের। কারণ? এ যে মার্কো এসেনসিও, অপূর্ব সুন্দর গোল করা তো এই তরুণের কাছে ডাল-ভাত! জিদানেরও এটি চোখ সওয়া হয়ে গেছে!
ম্যাচটা বড় চিন্তা নিয়ে শুরু করেছিলেন জিদান। চোট ও লাল কার্ড মিলিয়ে মাত্র একজন (নাচো) সেন্টার ব্যাক নিয়ে একাদশ সাজাতে পেরেছেন। কাসেমিরোকে মিডফিল্ড থেকে রক্ষণে নামতে হয়েছে দলের প্রয়োজনে। কিন্তু সে দুশ্চিন্তা কিছুটা কমে গেল ১০ মিনিটে এসেনসিওর নেওয়া সেই শটে, যে শটে গোলরক্ষক নড়াচড়ার সুযোগও পেলেন না। এ গোলেই টানা ৭০ ম্যাচে গোল করা হয়ে গেল রিয়ালের।
এরপরও মিনিট পাঁচেক ধারাভাষ্যকারদের মুখে শুধু এসেনসিওর নাম। না, ওই গোলের প্রশংসা নয়। আক্ষরিক অর্থেই পুরো মাঠ চষে বেড়িয়েছেন এই মিডফিল্ডার। দলের প্রয়োজনে একবার ডান প্রান্তে আক্রমণে যাচ্ছেন তো একটু পরেই মার্সেলোর শূন্যস্থান পূরণ করতে বাঁ প্রান্তের রক্ষণে।
এর মাঝেই ১৮ মিনিটে গোল শোধ করে দিল ভ্যালেন্সিয়া। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ‘ওয়ান টাচ’ ফুটবলের সুন্দরতম দৃশ্যপট তৈরি করে একটা নিচু ক্রস টনি লাটোর। সে পাস কাজে লাগালেন কার্লোস সোলের। রিয়াল ডিফেন্ডারদের ‘ব্লাইন্ড সাইড’ ব্যবহার করে ছোট ডি-বক্সে ঢুকে এক ছোঁয়াতে গোল। ম্যাচে সমতা ফিরল, তবে খেলায় নয়।
এরপর একের পর এক আক্রমণ করেই গেল রিয়াল। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছিল না। ভাগ্যও মুখ ঘুরিয়ে রইল। ৪০ মিনিটে বেনজেমাকে বক্সে ফেলে দেওয়ার পরও পেনাল্টির বাঁশি বাজেনি। ইসকো গোলের সুযোগ পেয়েও দেরি করায় গোল হয়নি। দুটো সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেননি বেনজেমা। প্রথমার্ধ তাই শেষ হলো ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও একের পর এক আক্রমণ করে গেছে রিয়াল। কিন্তু মাদ্রিদে যে একজন বেনজেমা আছেন। একের পর এক আক্রমণ ‘অসামান্য’ দক্ষতায় ব্যর্থ করে দিতে লাগলেন। কখনো গোলরক্ষককে একা পেয়ে বারের ওপর দিয়ে পাঠাচ্ছেন তো কখনো পোস্টের বাইরে। এর মাঝেই, ৭৬ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে কনডোগবিয়া এগিয়ে দিলেন ভ্যালেন্সিয়াকে। ওই বাঁ প্রান্ত দিয়েই, টনি লাটোর বানিয়ে দেওয়া বল থেকে। তারপরই আবারও মঞ্চে এসেনসিও।
৮২ মিনিটে মাতেও কোভাচিচের এনে দেওয়া ফ্রি কিক থেকে খেলায় সমতা ফেরালেন আরেকটি চোখ-জুড়ানো গোলে। এবারও ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষক নেতো কোনো সুযোগ পেলেন না নড়ার। তিন মিনিট পরেই এগিয়ে যেতে পারত রিয়াল। কিন্তু এসেনসিওর একক কৃতিত্বে বানিয়ে দেওয়া সে বল কীভাবে যেন বারের ওপর দিয়ে পাঠালেন বেনজেমা। পরের মিনিটে আবারও সেই এসেনসিওর শট থেকে পাওয়া বল ফাঁকায় দাঁড়িয়েও পাঠালেন পোস্টের বাইরে!
এমন মিসের পর কি আর ম্যাচ জেতা যায়! ৯১ মিনিটে ম্যাচে প্রথমবারের মতো একটা হেড গোলমুখে ফেলেছিলেন বেনজেমা। কিন্তু সে শট ঠিকই ঠেকিয়ে দিয়েছেন নেতো। ফলে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে রিয়ালকে, এসেনসিওকে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2018-01-17 এফএনএস২৪.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত।