fairnews24 Logo

নর্দান নার্সিং ইনন্টিটিউটের ২ ছাত্রীকে গণধর্ষণ

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) : | 02 Nov 2016   07:11:26 PM   Wednesday
 নর্দান নার্সিং ইনন্টিটিউটের ২ ছাত্রীকে গণধর্ষণ

রংপুরে একটি বেসরকারী নার্সিং ইনস্টিটিউট এর প্রথম বর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বুধবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আজিজ আসামীকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান। আদালতের বিচারক শফিউল আলম শুনানী শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ধর্ষণের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে কোতয়ালী থানায় ৫জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামী আলমগীর হোসেনকে (২২) গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আলমগীর একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং নীলফামারীর জলঢাকার বাঁশদহ গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে। এ ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামীরা হলেন, ধাপ সর্দারপাড়া এলাকার মৃত শফি উদ্দিনের ছেলে শাকিল (২৩), মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে পলাশ (২৫), মৃত আখের আলীর ছেলে শাহ আলম (২৮) এবং একই এলাকার মানিক মিয়া (২৮)। এ ঘটনার পর থেকে ওই চারজন পলাতক রয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে নর্দান নার্সিং ইনস্টিটিউট এর দুই শিক্ষার্থী একাডেমিক নোট নেয়ার জন্য তাদের সহপাঠির সাথে দেখা করতে ধাপ সর্দারপাড়া এলাকার মেরাজ ছাত্রাবাসে যান। এসময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ওই ছাত্রাবাসের বর্ডার আলমগীর হোসেন তাদেরকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা না বলার পরামর্শ দিয়ে কৌশলে ছাত্রাবাসের ভিতরে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে আলমগীর বহিরাগত  আরও চারজনকে ছাত্রাবাসে ডেকে নিয়ে ওই দুই শিক্ষার্থী ও তাদের সহপাঠি আলমগীর এবং নিমাইকে আলাদা রুমে আটকে রেখে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে ভোরের দিকে ওই শিক্ষার্থীদের সাথে আপত্তিকর ছবি তুলে তা ইন্টানেটে ছড়িয়ে দেবার হুমকি দিয়ে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে ধর্ষকরা। এসময় তাদের কাছে টাকা না থাকায় মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং এ ঘটনা অন্য কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেন তারা। পরে ধর্ষণের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থী ছাড়া পেয়ে ঘটনাটি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে অবহিত করলে অধ্যক্ষ শালিস বৈঠকের নামে কালক্ষেপন করতে থাকেন। একপর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে ওই দুই শিক্ষার্থীর একজন বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধর্ষক আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নর্দান নার্সিং ইনস্টিটিউট এর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সামাদ বলেন-গত ৩১ অক্টোবর ওই দুই শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ১ নভেম্বর তাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তার প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন, প্রধান সহকারী আইয়ুব আলী ও অফিস কর্মচারী ইদ্রিস আলী। এছাড়াও ধর্ষণের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থীর ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। এদিকে, পলাতক অন্য ধর্ষকদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিকবৃন্দের ব্যানারে বেলা ১টায় রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। প্রায় ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা দ্রুত পলাতক ধর্ষকদের গ্রেফতারের দাবি জানান। এসময় বক্তব্য দেন, জাগো রংপুরের আহবায়ক ডা. সৈয়দ মামুন-উর-রহমান, বাসদ সমন্বয়ক আব্দুল কুদ্দুস, ছাত্রফ্রন্ট নেত্রী মৌসুমী আক্তার মৌ, রংপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নিশাদ প্রমুখ। কোতয়ালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমকি জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। তাকে রিমান্ডে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি জানান।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2018-06-21 এফএনএস২৪.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত।