fairnews24 Logo

“বন্দুক দিয়ে টার্গেট প্র্যাক্টিস করি বন্দুকের নিশানা এবার তুই”

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) | 03 Oct 2017   05:30:12 PM   Tuesday
 “বন্দুক দিয়ে টার্গেট প্র্যাক্টিস করি বন্দুকের নিশানা এবার তুই”

“বন্দুক দিয়ে টার্গেট প্র্যাক্টিস করি, বন্দুকের নিশানা এবার তুই” বন্দুকসহ ফটোসেশন করে এমন প্রকাশ্য হুমকি সম্বলিত ছবি নিজেদের ফেসবুকে আপলোডের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সর্বত্র ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এমন বির্তকিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা।
প্রতিপক্ষের ছাত্র সংগঠনসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা হুমকির বিষয়টি অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন। অপরদিকে আসন্ন ছাত্রলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি এখন দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও প্রকাশ্য হুমকি হিসেবেই দেখছেন। সূত্রমতে, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় চলতি বছরের শেষের দিকে সম্মেলন করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অর্ধডজনের বেশি প্রার্থী থাকলেও তাদের সাথে পদ লাভের দৌড়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন সভাপতি প্রার্থী প্রসেনজিৎ দাস অপু এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কাওসার মাহমুদ মুন্না।
সূত্রে আরও জানা গেছে, রবিবার রাতে সভাপতি প্রার্থী প্রসেনজিৎ দাস অপু এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কাওসার মাহমুদ মুন্না বন্দুক হাতে নিশানায় তাক করে নিজেদের আলাদা আলাদা ছবি তোলেন। বন্দুক হাতে ওই ফটোসেশন করা ছবি তারা রবিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টা ২১ মিনিটে নিজেদের ফেসবুক ওয়ালে আপলোড করেন। সেই সাথে ছবির সাথে লেখেন ‘বন্দুক দিয়ে টার্গেট প্র্যাক্টিস করি, বন্দুকের নিশানা এবার তুই’।
এমন প্রকাশ্য হুমকি সম্বলিত ওই লেখাসহ বন্দুক হাতে নিজেদের তিনটি ছবি কাওসার মাহমুদ মুন্না তার ওয়াল থেকে পোস্ট করে সেটা প্রসেনজিৎ দাস অপুকে ট্যাগ করেন। অপু ছাড়াও বন্দুক হাতে আলাদা আলাদা তিনজনের ছবিসহ ওই পোস্টটি যুবলীগ নেতা মিন্টু এবং সময়ের বার্তা কাওসার মাহমুদ নামে নিজের আরেকটি ফেসবুক আইডিতেও ট্যাগ করেন মুন্না। এদিকে আপলোড করা ওই ছবি নিয়ে গত দুইদিন ধরে সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার দিনভর ও মঙ্গলবার এ ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ফেসবুকসহ সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতারা জানান, এ ঘটনায় অপু-মুন্না এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করেছে। একদিকে তারা নিজেদের পেশিশক্তিতে বলিয়ান এবং অস্ত্রচালনায় পারদর্শী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত করে নেতাদের আস্থাভাজন হতে চাইছে। আবার অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও তাদের পথ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মোঃ সোহেল আহমেদ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ছাত্রলীগ নামধারী কিছু সন্ত্রাসীরা আজ দলে বিভিন্ন পন্থায় অণুপ্রবেশ করে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল অতীত ঐতিহ্য ম্লান করার চেষ্টা করছে। ছাত্রলীগের কোনো আদর্শ এদের মাঝে নেই। এরা সুযোগ সন্ধানি হিসেবে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অতিথি পাখির মতো ছাত্রলীগে প্রবেশ করে। এদের ব্যাপারে এখনই দলের হাইকমান্ড সতর্ক না হলে ভবিষ্যতে এরা আওয়ামী লীগের জন্য মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সভাপতি প্রার্থী প্রসেনজিৎ দাস অপু এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কাওসার মাহমুদ মুন্না বলেন, কাউকে হুমকি নয় বরং ইয়ার্কি করেই এমন ছবি ফেসবুকে দেয়া হয়েছে। তবে ‘বন্দুক দিয়ে টার্গেট প্র্যাক্টিস করি, বন্দুকের নিশানা এবার তুই’ এ কথাটি কার বা কাদের উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে তার কোন সদুত্তর তারা দিতে পারেননি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2018-12-10 এফএনএস২৪.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত।