fairnews24 Logo

মণিরামপুরে ৮ মাসের নবজাতককে পুকুরে নিক্ষেপ

এফএনএস (জি. এম ফারুক আলম; মনিরামপুর, যশোর) : | 21 Nov 2016   07:17:58 PM   Monday
 মণিরামপুরে ৮ মাসের নবজাতককে পুকুরে নিক্ষেপ

অনৈতিক সম্পর্কের ফসল ৮ মাসের নবজাতককে পাঙ্গাস মাছের খাদ্য হিসেবে পুকুরে ফেলেও সত্য ঘটনা ধামাচাপা দিতে পারেনি লম্পট মনিরুজ্জামান বিপুল। যশোরের মনিরামপুরে ঝাঁপা গ্রামে এই লোহমর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে। বিপুল উপজেলার ঝাঁপা গ্রামের মশিয়ার সরদারের ছেলে। ঘটনার পর থেকে লম্পট বিপুল আত্মগোপনে রয়েছে।
জানা গেছে, বিপুল প্রতিবেশী এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ভয়-ভীতি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করে বলে-ওই প্রাবাসীর স্ত্রীর অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রবাসীর স্ত্রী বিপুলের বাড়িতে গিয়ে উঠলে তাকে গুম করা হয়। এ নিয়ে প্রবাসী স্বামী ফারুক হোসেনের পিতা ওমর আলী গাইন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এদিকে বিপুলের পরিবারের কাছ থেকে মোটাঅংকের অর্থ নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে গুমসহ পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে ফারুকের পিতা-মাতাকে ভয়-ভীতি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঝাঁপা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রেফাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
সরেজমিন সোমবার ঝাঁপা গ্রামে গেলে জানাযায়, গত ২৪ অক্টোবর স্থানীয় একটি পুকুরে এক নবজাতকের লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। এ সময় কুকুরে ওই লাশ নিয়ে টানাটানি করলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দাফন সম্পন্ন করে। কিন্তু তখনো নবজাতকের লাশ পুকুরে কিভাবে এলো কেউ তা জানতে পারেনি। পরে গ্রামবাসী জানতে পারে নবজাতকের লাশটি প্রবাসী ফারুকের স্ত্রীর।
এরপর কথা হয় ফারুকের স্ত্রীর সাথে। তিনি এ প্রতিবেদকের কাছে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমি ঘরে একা থাকি। পার্শ্ববর্তী মশিয়ার সরদারের ছেলে বিপুল প্রায় রাতে এসে অস্ত্র ঠেকিয়ে দেহভোগ করতো। এক সময় বিপুল বিয়ের আশ্বাস দেয়। এক পর্যায় অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়লে বিপুল অনাগত সন্তান নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এভাবে ৮ মাস পেরিয়ে গেলে গত মাসে বিপুলের এনে দেয়া ঔষধ খেয়ে সন্তান প্রসব হয়। এই নবজাতক সন্তানটিকে পাঙ্গাস মাছ চাষকৃত একটি পুকুরে ফেলে দেয় বিপুল। যাতে মাছে খেয়ে ফেলে। বিষয়টি জানাজানি হলে ১৪ নভেম্বর বিপুলের বাড়িতে গিয়ে উঠি। এরপর বিপুলের মা ছবেদা রাতের আধারে কোথায় নিয়ে যায় তা জানিনা। গত রোববার রাতে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে শ্বশুর বাড়িতে পৌছে দেয়। এ সময় পুলিশ মুখ না খুলতে আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি দেয়।
প্রবাসী ফারুকের পিতা ওমর আলী গাইন জানায়, পুত্রবধূকে না পেয়ে গত ১৯ নভেম্বর থানায় বিপুল, তার চাচা শফিকুল ও মা ছবেদার নামে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ঝাঁপা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই রেফাদুল বিপুলের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে পুত্রবধূ উদ্ধারের নামে টালবাহানা করতে থাকেন। এক পর্যায় বিষয়টি পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে রোববার রাতে পুত্রবধূকে উদ্ধার করে এসআই রেফাদুল ওই পুলিশ ফাঁড়ির ব্যাটেলিয়ন সদস্য ফয়েজের মাধ্যমে তার বাড়িতে পৌছে দেন।
প্রবাসী ফারুকের মা জোহরা বেগম জানায়, তার পুত্রবধূকে পুলিশ বাড়িতে পৌছে দিয়ে চলে যাওয়ার সময় বিষয়টি নিয়ে ঘাটাঘাটি করলে তাদেরকে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
বিষয়টি জানতে ঝাঁপা পুলিশ ফাঁড়ি কেন্দ্রে যাওয়া হয় এসআই রেফাদুল ইসলামের কাছে। ফাঁড়িতে এসআই রেফাদুল ইসলামের দেখা না মেলায় তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রবাসীর স্ত্রীর ঘটনায় কোন অভিযোগ হয়নি বিধায় তিনি এই বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কিন্তু উদ্ধারের সময় সাথে থাকা ব্যাটেলিয়ন সদস্য ফয়েজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্যার (এসআই রেফাদুল ইসলাম) ও আমি প্রবাসীর স্ত্রীকে তার শ্বশুর বাড়িতে পৌছে দিয়েছি। এ ব্যাপারে মনিরামপুর থানার ইনচার্জ বিল্পব কুমার নাথের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন অভিযোগ পাননি বলে দাবি করেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
কপিরাইট © 2018-09-24 এফএনএস২৪.কম কর্তৃক সর্ব স্বত্ব ® সংরক্ষিত।