শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর একটি আদালতে আইনজীবীর ছদ্মবেশে প্রবেশ করে কুখ্যাত গ্যাং লিডার সঞ্জীবা কুমারা সামারারত্নেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সংঘটিত এই হামলায় সঞ্জীবা মারা যান। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী একটি রিভলবার ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রটি একজন সন্দেহভাজন নারী ফাঁপা বইয়ের ভেতরে লুকিয়ে আদালতে নিয়ে এসেছিলেন। ওই নারী এখনো পলাতক রয়েছেন।
সঞ্জীবা কুমারা সামারারত্নে একাধিক হত্যা মামলার আসামি হিসেবে আদালতে হাজির হয়েছিলেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি পুলিশের হেফাজতে ছিলেন। শুনানির সময় আইনজীবীর ছদ্মবেশে প্রবেশ করা হামলাকারী তাকে গুলি করে। ঘটনার সময় সঞ্জীবার নিরাপত্তায় ১২ জন পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও তারা এই হামলা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হন। গুলিবিদ্ধ সঞ্জীবাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী একাধিক নাম ব্যবহার করতেন। এদিকে, ২৫ বছর বয়সী নারী পিনপুরা দেবাগে ইশারা সেওয়ান্দিকে এই ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার সম্পর্কে তথ্য দিলে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, একজন পুলিশ সদস্য এবং একটি ভ্যানের চালককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা এই হামলার সহযোগী ছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ড শ্রীলঙ্কায় চলমান গ্যাং সহিংসতার অংশ। গত বুধবার দেশটির সংসদে এই ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। বিরোধী দলীয় এক সাংসদ এটিকে ‘গুরুতর নিরাপত্তা সমস্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম মন্ত্রী নালিন্দা জয়তিসা জানিয়েছেন, সরকার সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এএফপি-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শ্রীলঙ্কায় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন।
এই ঘটনায় শ্রীলঙ্কার আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণত আদালতে অস্ত্রধারী নিরাপত্তা কর্মীদের অনুমতি দেওয়া হয় না। তবে এই ঘটনার পর বিচারমন্ত্রী হার্শানা নানায়াক্কারা জানিয়েছেন, নিয়ম পরিবর্তন করে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ ব্যক্তিদের আদালতে আনার সময় সশস্ত্র রক্ষী মোতায়েন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।