নীলফামারীর সৈয়দপুরে ডাব ও আনারসের দাম বেড়েছে তিনগুন। দেশের চলমান পরিস্থিতির অজুহাত দিয়ে কতিপয় ব্যবসায়ি দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন দ্বিগুন থেকে তিনগুন পর্যন্ত। এখানে কথা বলার কোন সুযোগ নেই। দাম নিয়ে একটু প্রশ্ন তুললে ব্যবসায়ি কর্তৃক ক্রেতাদের হতে হয় অপমানিত,লাঞ্ছিত।
কয়েজ মাস পুর্বে সৈয়দপুর বাজারে বেশ কয়েকটি দোকানে আনারস বিক্রি হয়েছে প্রতিটি ৪০ টাকা করে। হঠাৎ করে বাজারে একটি আনারস ৪০ টাকার পরিবর্তে বিক্রি করা হচ্ছে ১শ টাকা থেকে ১শ ৬০ টাকা পর্যন্ত।
বাজারে আনারস কিনতে আসা সাংবাদিক অনিক এ মন্ডল জানান,আমি কয়েক মাস পুর্বে একটি আনারস কিনেছি ৪০ টাকায়। আর আজ এসে দেখি একই সাইজের আনারস দাম চাচ্ছে ১শ ৪০ টাকা। দাম বেশির কারণ জানতে চাইলে অজুহাত দেখান দেশের চলমান সমস্যার কথা।
এদিকে কয়েক দিন থেকে পড়ছে প্রচন্ড গরম। গরমের কারণে অনেকেই ডাবের পানি পান করেন।
ডাব কিনতে আসা মোঃ সাদেক হোসেন জানান, আমি কয়েকদিন পুর্বে একটি মাঝারি ডাব কিনেছি ৭০ টাকা। আজ একই দোকানে এসে একটি ডাব চাচ্ছে ১শ ৬০ টাকা। তাও আবার এক দাম বললেন দোকানদার।
সৈয়দপুর পাঁচ মাথা মোড়ে ডাব কিনতে আসা মোঃ সুমন জানান, যে ডাব ছিল ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা। আজ সেই ডাব কিনতে হচ্ছে ১শ ৪০ টাকা। দাম বেশির কারণে ডাব না নিয়ে ফিরে আসি।
নীলফামারী রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন বলেন,আমি কয়েকদিন আগে সৈয়দপুর বাজারে যাই আনারস ও ডাব নিতে। দোকানদার একটি আনারসের দাম চাইল ১শ ২০ টাকা। ওই ছোট আকারের আনারসটির দাম ছিল কয়েক মাস পুর্বে মাত্র ৪০ টাকা। ৬০ টাকা দাম বলার পরও দোকানদার বিক্রি করলো না। শেষে আনারস ও ডাব না নিয়ে ফিরে আসি বাসায়। আমার ধারণা দোকানদাররা সিন্ডিকেট করে ইচ্ছে মত দাম নিচ্ছে। আনারস কিনতে আসা মমিনুল ইসলাম বলেন, এক শ্রেণির টাউট এবং অসৎ দোকানদার পণ্যের দাম নিজের ইচ্ছেমত নিচ্ছেন। এ বিষয়ে দোকানদাররা বলেন,বাজারে ডাব এবং আনারস সংকট। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি হয়েছে। সরবরাহ বেশি হলে দাম কমে যাবে।
সৈয়দপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল খালেক বলেন,শরীর ভাল রাখতে মাঝে মধ্যে ডাব ও আনারস খেতে হয়। কিন্তু বাজারে এ দুটি পণ্যের দাম অনেক বেশি। দামের ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিতে অপারগ দোকানদাররা।
এ ব্যাপারে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ক্যাব), সৈয়দপুর উপজেলা শাখার সহসভাপতি মোঃ ইয়াসিন আলী সরকার বলেন, দেশের এ সময়ে যে সকল ব্যবসায়ি দাম বাড়িয়ে জনগনকে একটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চায় তারা আসলে সৎ ব্যবসায়ি না।