নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে চলছে শ্রমিক আন্দোলন। শ্রমিকদের কোন কারণ ছাড়াই ছাটাই,অপমানজনক আচরণ,মাস শেষে বেতন নেই এমন অভিযোগ এনে আন্দোলনে নামে শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে না নিয়ে উল্টো তাদের দেখানো হয় নানান ভয়ভীতি। এমনকি তাদের নামে মামলা দিয়ে জেলে ভরার হুমকিও আসে মালিক পক্ষ থেকে। তাই বাধ্য হয়ে তারা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামে। কিন্তু মালিক পক্ষ তাদের ন্যায্য দাবি মেনে না নিয়ে বন্ধ করে দেয় ৪টি চালু কারখানা। কারখানা বন্ধ করায় অসহায় শ্রমিকরা আরো অসহায় হয়ে পড়ে। বেকার হয়ে যায় হাজার হাজার শ্রমিক। তাই বন্ধ কারখানা চালুর দাবি নিয়ে আবার তারা মাঠে নামে।
সোমবার শ্রমিকরা ইপিজেড চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় তারা ইপিজেডের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বাঁধা দেন। এতে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
কারখানার বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করছে না। অসুস্থতার কারণে ছুটি চাইলে তাঁদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করা হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত কাজ করলেও সেই পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে চাকরি থেকে বরখাস্তের হুমকিও দেওয়া হয়।
শ্রমিকরা ইপিজেডে কারখানাগুলো পুনরায় চালুর দাবিতে একত্রিত হয়। তারপরও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও বহিরাগতরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। রোববার শ্রমিক অসন্তোষের জেরে উত্তরা ইপিজেডের দেশবন্ধু টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, সেকশন সেভেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ইপিএফ প্রিন্ট লিমিটেড ও মেইগো বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এসংক্রান্ত নোটিশে বলা হয়, শনিবার কিছু শ্রমিক কাজে যোগ না দিয়ে প্রধান ফটকের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন অন্য শ্রমিকদের কাজে বাঁধা দিয়ে বেআইনিভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে।
এদিকে শ্রমিকদের হটিয়ে এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে কারখানা চালুর দাবি তুলেছে। তারা এলাকায় মাইকে প্রচার করছেন শ্রমিক আন্দোলন হঠাও ইপিজেড বাঁচাও।