সৈয়দপুরে অফিস ঘর বাণিজ্যিককরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) :
| আপডেট: ৫ জানুয়ারী, ২০২৫, ১২:৩৫ পিএম | প্রকাশ: ২ জানুয়ারী, ২০২৫, ০১:১৭ এএম
সৈয়দপুরে অফিস ঘর বাণিজ্যিককরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত অফিস ঘর ভেঙ্গে বাণিজ্যিককরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ভাসানী অনুসারীরা সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক বরাবরে বুধবার বিকালে অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে সৈয়দপুর শিল্প সাহিত্য সংসদের সভাপতি ম.আ.শামীম, নীলফামারী বারের সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. তুষার কান্তি রায়, কৃষক নেতা কমরেড আব্দুর রউফ, শ্রমিক নেতা তোফাজ্জল হোসেন,ভাসানী স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম,ক্ষেতমজুর নেতা ওবায়দুর রহমান,কৃষক নেতা জাহেদুল ইসলাম,ভাসানী অনুসারী কাজী শরিফুল ইসলাম,অধ্যাপক আরমান,শেখ ফজলুল হক বাবলুসহ একাধিক ভাসানী ভক্ত অভিযোগ করে জানান,বিলুপ্ত রেল শ্রমিকদের সংগঠন বারওয়েল অফিসটিতে মওলানা ভাসানী জীবিতকালে অনেকবার এসেছিলেন। ওই অফিস ঘরটির নিজ হাতে দিয়েছিলেন তিনি ভিত্তি। ঘর নির্মাণে করেছেন আর্থিক সহযোগিতা। যেহেতু অফিস ঘরটি রেলওয়ের জায়গায় নির্মাণ করা হয় সেই কারণে মওলানা ভাসানীর প্রতিষ্ঠিত রেলওয়ে অঙ্গনের শ্রমিক সংগঠন বারওয়েলকে (বাংলাদেশ রেলপথ এ্যামপ্লয়ীজ লীগ) ব্যবহার করার অনুমতি দেয়া হয় সেটি। কিন্তু ওই অফিস ঘরটি সকল বাম প্রগতিশীল সংগঠনের নেতাকমর্মীরাও ব্যবহার করতে পারবে এমন নির্দেশনাও মওলানা ভাসানী দিয়েছিলেন। অভিযোগকারীরা আরো বলেন রেল অঙ্গনের বিলুপ্ত বারওয়েলের নেতা গোলাম মোস্তফা মহব্বত, জতিন চন্দ্র রায়, মো. লাল্টু ও মো. আবু বক্কর সিদ্দিক অফিস ঘরটি দখলে নিয়ে তা ভেঙ্গে সেখানে দোকান ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। একই সাথে তারা মওলানা ভাসানীর স্মৃতি নিশ্চিহ্ন করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে চাইছেন বলে গুঞ্জন চলছে। এসব ব্যক্তিদের এমন কর্মকান্ডে সৈয়দপুরের ভাসানী অনুসারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত অফিস ঘরের আকৃতি প্রকৃতি পরিবর্তনের কাজ বন্ধ করতে সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত এই ঘরটি মওলানা ভাসানী স্মৃতি সংসদের নিকট হস্তান্তরেরও দাবি জানান। অভিযোগ বিষয়ে জানতে কথা হয় বিলুপ্ত বারওয়েলের কারখানা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক জতিন চন্দ্র রায় ও সাবেক শ্রমিক নেতা মো.লালটুর সঙ্গে। তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অফিস ঘরটি রাস্তার চেয়ে নীচু হওয়ায় তা সংস্কার করা হচ্ছে। বাণিজ্যিককরণের কোন ইচ্ছা নেই। অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা জানতে মুঠোফোনে কথা হয় সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর-ই-আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে। তিনি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।