পটুয়াখালী ২ ধানের শীষের প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে বাউফলে উত্তেজনা

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৪:৪১ পিএম
পটুয়াখালী ২ ধানের শীষের প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে বাউফলে উত্তেজনা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে তীব্র উত্তেজনা। মনোনয়ন প্রকাশের পর থেকেই বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল ও সন্ধ্যায় বাউফলের বিভিন্ন সড়কে ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন উপজেলা বিএনপি এবং পৌরসভা বিএনপি ও  অঙ্গসংগঠনের ১৫ টি ইউনিয়ন কমিটির নেতৃীবৃন্দ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাউফলের বিএনপি রাজনীতি বর্তমানে তিনটি ভাগে বিভক্ত।বড় অংশের   নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মুনির হোসেন।দ্বিতীয়  অংশটির নেতৃত্বে আছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নীর্বাহী সদস্য ইঞ্জিনিয়ার একে এম ফারুক আহমেদ তালুকদার। অল্প কিছু সংখ্যক কর্মি নিয়ে মাঠে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুল আলম তালুকদার। 

যদিও মুনির হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক সরাসরি মাঠের কর্মসূচিতে নেই, তবে তাদের অনুসারীরা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে। মুনির হোসেনপন্থীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধাএবং সসদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ, অন্যদিকে, ফারুক আহমেদপন্থী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী পলাশ।

বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন শহীদুল আলম তালুকদার ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে  স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর খানের ঘড়ি  মার্কার নির্বাচন করেন, ২০০৮ সালের সংসদ  নির্বাচনে বিএনপির  মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাপান  ফিরোজ এর আনারস মার্কার মার্কার নির্বাচন করেন শহিদুল আলম তালুকদার।এবং ২০১৮ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে  তার আপন ছোট ভাই তসলিম তালুকদার কে দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী  হিসেবে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেন, তিনি সবসময়ই বিএনপির হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন , তাই তাকে পুনরায় মনোনয়ন দিলে দলীয় ঐক্য ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

শনিবার বিকেল, রোববার বিকেল ও রাতে  দুটি গ্রুপ পৃথকভাবে পৌরসভা ও বাউফলের ১৫ টি  ইউনিয়ন থেকে মশাল মিছিল, বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তারা মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে স্লোগান দেন এবং কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, দল আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করতে চাই।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি সেনাংশু সরকার কুট্টি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। অতএব এখানে আমার পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক শৃস্টাচার অনুযায়ী কেন্দ্রীয় যেকোন সিদ্ধান্ত মানতে হবে সবাইকে।