ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক সীমান্তে অব্যাহত বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সিপিবি(এম)’র

প্রেস বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশ: ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:০০ পিএম
ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক সীমান্তে অব্যাহত বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সিপিবি(এম)’র

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-সিপিবি(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড এম এ সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাহিদুর রহমান সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক ধারাবাহিক ভাবে বাংলাদেশী নাগরিকদের  হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর পতাকা বৈঠক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত হত্যা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও ভারতের বিএসএফ  অব্যাহতভাবে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে। নেতৃদ্বয় বলেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে বিগত দশকে আট শতাধিক বাংলাদেশী নাগরিককে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছে। চলতি বছরে ২৮ জনকে হত্যা করেছে সর্বশেষ গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার লালমনিহাটের পাটগ্রামে সীমান্তের ৩০ গজ ভিতরে সবুজ ইসলাম এবং মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সীমান্ত এলাকায় গরু চরানোর সময় সুকিরামকে  বিএসএফের গুলি করে হত্যা করছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন,  আন্তর্জাতিক আইনে কোন বাহিনীকে বিশ্বের কোথাও নিরস্ত্র- বেসামরিক নাগরিকদের গুলি করার অনুমতি দেয়া হয়নি সীমান্তে কোন লেথাল উইপেন (প্রাণঘাতি অস্ত্র) ব্যবহার করা হবেনা বলে প্রতিশ্রুতি  দিলেও ভারতের বিএসএফ এর গুলিতে নিরীহ বাংলাদেশীরা প্রাণ হারাচ্ছে। বিএসএফ এর পক্ষ থেকে বার বার হত্যার শিকার বাংলাদেশীদেরকে গরু চোরাচালনকারী ও অনুপ্রবেশকারী  বা অপরাধী হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা করা হয়। চোরাচালানকারী বা অনুপ্রবেশকারী হলেও গুলি করে হত্যা করবে  কোন দেশের আইনে আছে অপরাধী হলে তাদের গ্রেপ্তার করে প্রচলিত আইনে বিচার করতে পারে। কিন্ত ক্রমাগত বিএসএফ বাংলাদেশীদের হত্যা করে চলেছে যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারের চরম লংঘন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সীমান্তে হত্যার শিকার বেশিরভাগই সীমান্তবর্তী এলাকার দরিদ্র মানুষ। অনেকে কৃষি কাজ করতে গিয়ে ভুলবশত জিরো লাইনের কাছে চলে গেলে গুলি বর্ষণের শিকার হয়। ফেলানীর লাশ সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলে থাকার ঘটনা বাংলাদেশীরা কোনদিন ভুলতে পারবে না।এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারাকে বাংলাদেশ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক ব্যর্থতাকে দায়ী করে বলেন, অবিলম্বে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর  উদ্যোগ গ্রহণ করে দ্বিপাক্ষিক এমনকি আন্তর্জাতিক ফোরামে তোলার জোর দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা বন্ধে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারনেই স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবন দিতে হচ্ছে।