ঈদগাঁওর স্পর্শকাতর ও বন্যা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বেড়িবাঁধ অবৈধ ভাবে দখল

এফএনএস (রেজাউল করিম; ঈদগাঁও, কক্সবাজার) : | প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৩ এএম
ঈদগাঁওর স্পর্শকাতর ও বন্যা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বেড়িবাঁধ অবৈধ ভাবে দখল

কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ দখল করে ব্যক্তিগত বসত ভিটায়  সাথে একাকার করে ফেলেছে। ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লারাবাকে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে দখলকারীদের বসতভিটা সম্প্রসারিত হলেও ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও খালের বারোটা বাজার উপক্রম হয়েছে। 

এ অভিযোগ সুনির্দিষ্ট ভাবে দু'জনের বিরুদ্ধে হলেও তাদের দেখাদেখি আরো অনেকে বেড়িবাঁধ কেটে বসতভিটার সাথে মিলিয়ে ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ যাবত এ কার্যক্রম চললেও এলাকার কেউই প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

সরেজমিন গিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃহত্তর ঈদগাঁওর মধ্যে স্পর্শকাতর ও বন্যা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হচ্ছে পূর্ব লারাবাক। স্থানীয় জনসাধারণের সুবিধার্থে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড উক্ত গ্রামের খালপাড়ে বেড়িবাঁধ তৈরি করে দিয়েছে। এ বেড়িবাঁধ দিয়েই লোকজন ও যানবাহন চলাচল করে থাকে। 

সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বাড়িভিটার সাথে লাগুয়া উক্ত স্পর্শকাতর বেড়িবাঁধ কেটে ফেলে এবং তাদের বসতভিটার সাথে সংযুক্ত করেছে। তারা মাটি কেটে ওয়াবদার গতিপথ পরিবর্তন করেছে। এর মাধ্যমে তারা খালের এরিয়া নিজেরদের বসতভিটির সাথে সংযুক্ত করে ফেলেছে। বসতভিটার আকার বড় করতে তারা এ জনস্বার্থ বিরোধী  হীন কাজ করে যাচ্ছে।

অথচ বেড়িবাঁধ দিয়ে মিয়াজী পাড়া, দক্ষিণ লরাবাক, খামার পাড়া ও  ফরাজী পাড়ার মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। দীর্ঘদিন এটি তাদের চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 

বেরিবাঁধের অংশ বিশেষ কেটে বসতভিটার সাথে মিলিয়ে ফেলায় লোক, রিক্সা ও অটো টেম্পু চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বেড়েছে বন্যা ঝুঁকি। আবার নদী সিকস্তি জায়গা মাথাঘিলা হিসেবে দখল করে নিজেদের বসতবাড়ির জমির সীমানার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে।

খালের বেড়িবাঁধের জমি ও নদী সিকস্তি জায়গা দখল করে বেড়িবাঁধের গতিপথ পরিবর্তন করে ফেলেছে। কিন্তু সম্প্রসারিত হয়েছে এসব অভিযুক্তদের বসতভিটার।

স্থানীয় সচেতন বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন জানান, এভাবে বেড়িবাঁধ দখল অব্যাহত থাকলে আগামী বর্ষা মৌসুমে বন্যা ঝুঁকি তীব্রভাবে বাড়বে। লোকও যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। দেখাদেখি অন্যান্যরাও নদীর জায়গা দখল করতে উৎসাহী হবে। খালের আয়তন কমে যাওয়ায় বন্যা ও বৃষ্টির পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এতে বেড়িবাঁধ ব্যবহারকারী জনগণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরো বলেন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন হলে স্বাভাবিক ভাবে বেড়িবাঁধও নষ্ট হয়ে যাবে। 

অভিযুক্তরা বেড়িবাঁধের অংশ বিশেষ কাটতে গিয়ে ৭ /৮ বছর বয়সী প্রায় ২০টির মতো ইউক্লিপটাস গাছ কেটে ফেলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেড়িবাঁধ সংশ্লিষ্ট এলাকায় শতাধিক পরিবার বসবাস করে আসছেন।। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে জালালাবাদের পুরো ইউনিয়নসহ চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন বন্যা ও ঝড়ের পানিতে টইটুম্বুর হয়ে উঠবে। ফলে এসব ইউনিয়নের লোকজনকে এক প্রকার পানিবন্দী জীবনযাপন করতে হবে। 

এ বিষয়ে আশু প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না করলে অনেকে ব্যাপারটিকে স্বাভাবিক মনে করে নদীর জমি দখল অব্যাহত রাখবেন। অন্যদিকে বিলম্ব ঘটলে দখলের আলামতও নষ্ট হয়ে যাবে।

এলাকার ৫০ বছর বয়সী আবু তাহের জানান, ঘটনা সম্পূর্ণ সত্য হলেও আমরা প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছি না।  অভিযুক্ত একজনের নিকট আত্মীয় আবছারও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। 

সরেজমিন দেখা গেছে, বেরিবাঁধের একাংশ দখল করায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের খুঁটি অভিযুক্তের বসতভিটার ভিতরে চলে গেছে। টিনের বেড়া দিয়ে বেড়িবাঁধ দখল করা হয়েছে এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে এলাকাবাসীকে। প্রস্থে ৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্যে ৫০ ফুট দখল করে বেড়িবাঁধকে বসতভিটার সাথে একাকার করে ফেলা হয়েছে।

এলাকা ঘুরে খবর পাওয়া গেছে, নদী সিকস্তির জায়গা অনেকে মাথাঘিলা হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। অথচ বিধিমতে খালের আকার কমানোর অধিকার কারো নেই।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, মোহাম্মদ শফি আলম নিজের ভিটির সাথে বেড়িবাঁধের একাংশকে আর সিরাজুল ইসলাম বেড়িবাঁধের পথ পরিবর্তন করে নদীর গতিপথকেই বদলে ফেলেছে।

অভিযোগ ওঠা মোহাম্মদ শফির ছেলে মোঃ ফিরদাউস প্রকাশ ফিরোজ বেড়িবাঁধের একাংশ দখলের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রয়োজনে আইনের লোকদের মাধ্যমে অথবা সমাজের সচেতন ব্যক্তিবর্গের পরামর্শ মতে দখল ছেড়ে দিতে হলে আমরা দখল ছেড়ে দিতে রাজি আছি।

অপর অভিযুক্ত সিরাজুল হকের সাথে কথা হলে তিনি গাড়িতে আছেন বলে জানিয়ে শফীর ছেলের সাথে কথা বলে পুরো বিষয়টি এ প্রতিনিধিকে জানাবেন বলে জানান। তিনি এও বলেন যে, বেড়িবাঁধ দখল এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনে অভিযোগকারী টিপুর য় ক্ষতির কোন ব্যাপার নেই।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে