পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণিতে প্রমোশন পরীক্ষায় অস্বাভাবিকভাবে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষকদের একটি সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রাইভেট পড়ানো বাণিজ্য, প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি, সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন, খাতা না দেখানো এবং স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে বরিশাল বিভাগের মাননীয় বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। স্মারকলিপিতে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধান শিক্ষককে অপসারণের পর বিদ্যালয়ে একটি বিশেষ শিক্ষকগোষ্ঠীর প্রভাব তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শরীরচর্চা শিক্ষক রাকিবুল হাসান শিপনের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষক ও কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি বলয় গড়ে ওঠে, যার প্রভাবে নিয়মিত পাঠদান বাধাগ্রস্ত হয়। প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের ফেল করানোসহ নানা ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও দাবি করা হয়। অভিভাবকদের ভাষ্য, করোনাকাল ও পরবর্তী সময়ে অনিয়মিত কারিকুলাম, মোবাইলনির্ভর অ্যাসাইনমেন্ট এবং ধারাবাহিক অটোপাস সংস্কৃতির কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়ালেখার সুযোগ পায়নি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দিষ্ট শিক্ষকদের ক্লাস পাওয়া নিয়ে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য শিক্ষার্থীদের টানাহেঁচড়া করা হতো। যারা প্রাইভেট পড়েনি, তাদের পরিকল্পিতভাবে অকৃতকার্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সিলেবাসে ৮টি অধ্যায় থাকলেও মাত্র ৫-৬টি অধ্যায় পড়ানো হয়েছে। অথচ পরীক্ষায় সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন এবং কোথাও দশম শ্রেণির প্রশ্ন দিয়ে নবম শ্রেণির পরীক্ষা নেওয়া হয়। একাধিক বিষয়ে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নিয়ে পরে প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ছাড়া অন্য শিক্ষক দিয়ে খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং পরীক্ষার খাতা দেখানো হয়নি। তৃতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো বিষয়ে ফেল না করেও হঠাৎ প্রমোশন পরীক্ষায় এত শিক্ষার্থী ফেল করায় ফলাফল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে মাত্র দেড় মাসের কারিকুলামে অষ্টম থেকে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের এই বিপুল ফেল অস্বাভাবিক বলে দাবি করা হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন অধ্যক্ষবিহীন অবস্থায় বিদ্যালয়ে নীতিবহির্ভূত ও বেআইনি কার্যক্রম চলেছে। অভিভাবকরা প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়ার হুমকি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। এমনকি কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগও রয়েছে, যা শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে অভিভাবকদের দাবি। পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিভাবকরা জানান, নবম শ্রেণিতে ১৪ জন ছাত্র ও ২০ জন ছাত্রী স্বাভাবিকভাবে উত্তীর্ণ হলেও ৩৭ জন ছাত্র ও ৩৮ জন ছাত্রী একাধিক বিষয়ে ফেল করায় তাদের প্রমোশন দেওয়া হয়নি। বর্তমানে এসব শিক্ষার্থী অন্য কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না, যা তাদের ভবিষ্যৎকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে। এ অবস্থায় অভিভাবকরা বিভাগীয় কমিশনারের মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করে অবিলম্বে নবম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণিতে শর্তবিহীন প্রমোশনের দাবি জানান। একই সঙ্গে পরবর্তী টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হলে কর্তৃপক্ষ কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলেও তারা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন। অভিভাবকদের দাবি, একসময় বরিশাল বিভাগের মধ্যে শিক্ষার মানে শীর্ষে থাকা পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে দ্রুত প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে না আনলে প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য ও শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ চরম সংকটে পড়বে।