জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ শুক্রবার পঞ্চগড়ের চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, “কেউ কেউ বসন্তের কোকিল-উড়ে এসে জুড়ে বসে। কিন্তু আমরা দুঃখ-কষ্টের সময় দেশবাসীকে ফেলে কোথাও যাইনি, ভবিষ্যতেও যাব না-ইনশা আল্লাহ।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের কোনো কার্ড নেই-আপনারাই আমাদের শক্তি, আপনারাই আমাদের কার্ড। এত দিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত আওয়াজ উঠেছে, কিন্তু ভারসাম্য ছিল না। এবার আমরা স্লোগান দেব-তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ বসন্তের কোকিল-উড়ে এসে জুড়ে বসে। কিন্তু আমরা দুঃখ-কষ্টের সময় দেশবাসীকে ফেলে কোথাও যাইনি, ভবিষ্যতেও যাব না-ইনশা আল্লাহ।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘১২ তারিখে বিজয় ছিনিয়ে আনা পর্যন্ত আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। আর কোনো পুরোনো দুর্বৃত্ত যেন নতুন কোনো পোশাকে ফিরে আসতে না পারে-সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি আজ এখানে বক্তৃতা দিতে আসিনি, সাক্ষ্য দিতে এসেছি। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই উত্তরবঙ্গকে পরিকল্পিতভাবে গরিব করে রাখা হয়েছে। এই অঞ্চল আমাদের কলিজার অংশ। অথচ ইচ্ছে করেই একে পিছিয়ে রাখা হয়েছে, অবহেলা করা হয়েছে। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি, উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দিতে পাঁচ বছরই যথেষ্ট। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
‘আমরা উত্তরাঞ্চলে বেকার যুবক দেখতে চাই না। আমরা চাই প্রতিটি মানুষের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে। প্রতিটি নাগরিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আল্লাহ তায়ালার দায়িত্ব দিলে আমরা প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তুলব। পঞ্চগড়েও বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। যারা ভেবেছেন এত টাকা কই পাব; ২৮ লক্ষ কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে, তাদের পেটের ভেতর হাত ঢ়ুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনা হবে’-উল্লেখ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান অঙ্গীকার করে বলেন, ‘উত্তরবঙ্গকে আমরা শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। পঞ্চগড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো আবার চালু করতে চাই। আগামী দিনে আপনাদের সঙ্গে নিয়েই দায় ও দয়ার বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা যুবসমাজের হাত শক্তিশালী করব, ইনশা আল্লাহ।’
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, এনসিপির মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ থেকে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।