নানা বাঁধা পিছনে ফেলে নতুন ছন্দে ফিরলেন শাকিরা

এফএনএস বিনোদন | প্রকাশ: ১৬ মে, ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
নানা বাঁধা পিছনে ফেলে নতুন ছন্দে ফিরলেন শাকিরা

আলো ঝলমলে স্টেডিয়াম, হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস, পতাকার ঢেউ আর উত্তেজনায় কাঁপতে থাকা একেকটি মুহূর্ত। বিশ্বকাপ মানেই কেবল গোলের উল্লাস আর প্রতিপক্ষকে হারানোর তৃপ্তি নয়; এটি একই সঙ্গে সংস্কৃতি, শিল্প ও উদযাপনের মেলবন্ধন। ফুটবল যখন বিশ্বকে এক সুতোয় বাঁধে, ঠিক তখন কোথাও না কোথাও একটি কণ্ঠ ভেসে ওঠে। যে কণ্ঠ শুনলেই মনে পড়ে যায় বিশ্বকাপ, উন্মাদনা আর উদযাপনের দিনগুলোর কথা। সেই কণ্ঠের নাম শাকিরা। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ফুটবলের মঞ্চে ফিরছেন শাকিরা। এই প্রত্যাবর্তন যেন শুধু একজন গায়িকার ফিরে আসা নয়, বরং একটি বৈশ্বিক স্মৃতির পুনর্জন্ম। কারণ ফুটবল আর শাকিরা-এই দুই নাম অন্তত দুই দশক ধরে একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে আবেগের অদৃশ্য অথচ অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ। প্রত্যাশা আর আনন্দের সাগরে ভাসছিল দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ থেকে কেপটাউন পর্যন্ত প্রতিটি প্রান্তর। ঠিক সেই সময় মুক্তি পায় শাকিরার গান ‘ওয়াকা ওয়াকা...দিস টাইম ফর আফ্রিকা’। মুহূর্তেই গানটি ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। স্টেডিয়ামের বাইরে, ক্যাফেতে, রাস্তায়, এমনকি ছোট শহরের টেলিভিশনের সামনেও মানুষ নেচেছিল সেই তালে। ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলার, আইভরি কোস্টের দিদিয়ের দ্রগবাদের মতো তারকারাও সেই গানের ভিডিওতে অংশ নিয়ে ফুটবল আর আফ্রিকার মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের ‘লা লা লা’ দারুণ সাড়া পেলেও তাও পেরিয়ে গেছে বছর দশেক। ভক্তরা মনে মনে ভেবেছিল, হয়তো ফুটবলের মঞ্চে আর দেখা মিলবে না শাকিরার। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান। সম্প্রতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গানের প্রথম ঝলক উন্মোচন করেছেন শাকিরা। ৪৯ বছর বয়সী এই গায়িকা ‘দাই দাই’ নামে নতুন গানটি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো আর কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ আসর মাতাতে এখন পুরোপুরি তৈরি। সম্প্রতি তিনি ইনস্টাগ্রামে ব্রাজিলের কিংবদন্তি মারাকানা স্টেডিয়ামের গানটির এক ঝলক ভিডিও শেয়ার করে ভক্তদের মনে জ্বালিয়ে দিয়েছেন আগুন। নাইজেরিয়ান সেনসেশন বার্না বয়কেও এই গানে শাকিরার সঙ্গে গলা মেলাতে দেখা যাবে-যা গানটিতে আফ্রিকান ড্রাম ও লাতিন বিটের এক অসাধারণ সংমিশ্রণ ঘটাবে। এক সাক্ষাৎকারে শাকিরা বলেছিলেন, ‘আমি যখন বিশ্বকাপের গান করি, আমি শুধু গাই না। আমি দেখি সাড়ে তিনশ কোটি মানুষ কীভাবে গোলের সময় লাফিয়ে ওঠে। আমি সেই আনন্দের প্রতিনিধি হতে চাই।’ বর্তমানে টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে #ঝযধশরৎধডড়ৎষফঈঁঢ় #উধরফধর২০২৬ ট্রেন্ডিংয়ে উঠে এসেছে। এক ফ্যান পেজে লিখেছেন, ‘আমি ২০১০ সালে ছিলাম পাঁচ বছরের বাচ্চা, ওয়াকা ওয়াকা নাচতাম। এখন আমি কলেজে, আবার সেই অনুভূতি ফিরতে চলেছে।’