দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদের পশ্চিম পাশে মেইন সড়কের পাশে বিএডিসির সেচ প্রকল্পের আওতাভুক্ত বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সময়মতো জমি চাষ ও ফসল রোপণ করতে না পারায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন অনেক কৃষক।
দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদের কেবলই পশ্চিম পাশে অবস্থিত বিএডিসি'র সেচ প্রকল্পের আওতায় ১৫ হেক্টর জমির পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ হওয়ায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ৪৯ জন কৃষকের এই জমি আমন মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে ধানের চারা রোপন করতে পারছেনা ৪/৫ বছর ধরে। ফলে এই জমিতে ১০০/১২০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উক্ত জমির মালিকগণ। স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অথবা বিএডিসি কোনো কর্তৃপক্ষ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টাকা নেই, বিএডিসি'র ফান্ড নেই। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকা, নালা ভরাট বা দখল, অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের অভাবের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
মোঃ রাশেদ, শহিদুল ইসলাম, মোঃ শাহজাহান, মোঃ আসাদ, ইশা শেখ, মোজাম শেখসহ ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে জলাবদ্ধতা দূর করা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শফিউল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি উক্ত জলাবদ্ধ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। দপ্তরের কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগী কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করেছি। খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসকে আজিজুল বারী হেলাল এ জলাবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন। তিনি এ বিষয়ে কতদূর অগ্রগতি হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন দাশ গুপ্ত এর সাথে কথা বলবেন বলে জানান।