সাংবাদিকতার জীবন্ত ইতিহাস,প্রবীণ সাংবাদিক আমিনুল হকের জীবনপথ

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) :
| আপডেট: ২ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম | প্রকাশ: ২ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
সাংবাদিকতার জীবন্ত ইতিহাস,প্রবীণ সাংবাদিক আমিনুল হকের জীবনপথ

উত্তরাঞ্চলের সাংবাদিকতার ইতিহাসে শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত একটি নাম আমিনুল হক। প্রায় আট দশকের জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি শুধু একজন সংবাদকর্মী নন, বরং সৈয়দপুরের সাংবাদিকতা, সামাজিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক নিরলস সংগঠক। সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন উত্তরাঞ্চলের প্রবীণ সাংবাদিকদের অন্যতম হিসেবে।

১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন আমিনুল হক। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রেসক্লাবকে একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করে সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাগত মানোন্নয়ন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।

সাংবাদিকতার দীর্ঘ জীবনে তিনি দেশের স্বনামধন্য দৈনিক সংবাদ, যুগান্তর ও সমকাল-এর রংপুর অফিস প্রধান,স্টাফ রিপোর্টার,ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি আবার কখনো উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারের সংবাদ কার্যক্রমের সঙ্গেও নীলফামারী  ঠাকুরগাঁও জেলায় যুক্ত ছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের বিকাশে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আলাপন পত্রিকা, যেখানে সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন। শুধু সাংবাদিকতাই নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও আমিনুল হকের অবদান উল্লেখযোগ্য। সৈয়দপুরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি সমাজ উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।

বর্তমানে প্রায় ৮৫ বছর বয়সেও তিনি সমাজ ও সাংবাদিকতার খোঁজখবর রাখেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা এবং নৈতিক অবস্থান আজও তরুণ সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। পেশাগত জীবনে তিনি সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, দায়িত্বশীলতা এবং নীতির প্রশ্নে কখনও আপস করেননি, যা তাঁকে সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে সমানভাবে সম্মানিত করেছে। সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি যে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার একটি অঙ্গীকার,আমিনুল হকের জীবন তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সৈয়দপুরের সাংবাদিকতার ইতিহাসে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। উত্তরাঞ্চলের গণমাধ্যমের বিকাশে তাঁর নিরলস শ্রম, নেতৃত্ব ও সততার উত্তরাধিকার দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।  আমি নিজেও দীর্ঘ কয়েক বছর তাঁর কাছে থেকে, সাথে থেকে হাতে কলমে সাংবাদিকতা শিখেছি। তিনি একজন রসিক মানুষও। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। তাই সকলের কাছে তিনি দোয়া প্রত্যাশা করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে