কিশোরগঞ্জে অনলাইন ভিসা প্রতারক চক্র বেপরোয়া

এফএনএস (আব্দুর রাজ্জাক, নীলফামারী) :
| আপডেট: ২ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম | প্রকাশ: ২ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
কিশোরগঞ্জে অনলাইন ভিসা প্রতারক চক্র বেপরোয়া

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ভিসা প্রতারক চক্রের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দামি মডেলের বাইক ও কারে চড়ে তারা দাপটে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রবাসী ও বিদেশ যেতে ইচ্ছুক লোকদেরকে তারা কৌশলে ফাঁদে ফেলতেছে। প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। এতে নারী কেলেঙ্কারি ও মাদকের প্রকোপ বাড়ায় এলাকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। 

অনুসন্ধানে জানা য়ায়, ফেসবুক পেজে ভিডিও বুষ্ট করে প্রতারকরা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। নিজেকে প্রবাসী সাজাতে তারা ডলার দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ইমো নম্বর কিনে নিজের মোবাইলে সেটআপ দেয়। সেই ইমোতে কেউ যুক্ত হলে ইউরোপের ভিসা দেওয়ার অজুহাতে কৌশলে তাদের লাখ-লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা দিয়ে ভুক্তভোগীকে ইমোতে ব্লক করে দেয়। 

ভিসা প্রতারকদের আতুরঘর বলে পরিচিত নিতাই ইউনিয়ন ও বাহাগিলী ইউনিয়নের বৈদপাড়া গ্রাম। তবে এখন উপজেলার প্রত্যেক গ্রামে-গ্রামে এ প্রতারক চক্র ডানা মেলেছে। প্রতারণায় টাকায় অনেকে নির্মাণ করেছে দৃষ্টিনন্দন বহুতল বাড়ি। তাদের বড়লোকি কেনা-কাটা ও বেপরোয়া চলন-বলন সমাজে বিরুপ প্রভাব পড়ছে। নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থী ও স্বল্প শিক্ষিত যুবকরা এ চক্রের সদস্য। তারা হঠাৎ বড়লোক হতে অনলাই ভিসা প্রতারণায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। 


সম্প্রতি ঠাকুরগাঁয়ের রাণীশৈংকল উপজেলার আসাদুজ্জামানকে কানাডার ভুয়া ভিসা দিয়ে ৭ লাখ টাকা নেন নিতাই ডাঙ্গাপাড়ার প্রতারক। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর গ্রামের নূর হোসেনকে অষ্টেলিয়ার ভিসা দেওয়ার কথা বলে বাহাগিলীর উত্তর দুরাকুটি গ্রামের প্রতারক চক্র ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীরা টাকার জন্য প্রতারকের বাড়িতে গেলে তারা সটকে পড়েন। 

এদিকে ওমান প্রবাসী ভুক্তভোগী ফেনী সদরের শাহিনুর রহমানকে ইউরোপের ভিসা দেওয়ার কথা বলে নিতাই আদিয়ারপাড়ার প্রতারক চক্র ৮ লখ টাকা নেন। এছাড়া নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানার পন্ডিতবাড়ি গ্রামের আতিক রহমানকে অষ্টেলিায়ার ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার বড় বোনের কাছ থেকে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের পর স্থানীয়রা টাকার বিষয়টি রফাদফা করে দেন। 

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস জানান, থাই গেম ও ভিসা প্রতারণার ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২০টি মামলা তদন্তধীন রয়েছে। এসব মামলায় ২৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অনলাইন প্রতারকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে