নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর বেশ কয়েকটি কারখানায় তৈরি হয় অবৈধ মালামাল।দীর্ঘদিন থেকে বিশিক শিল্পনগরী ওই সকল কারখানায় অবৈধ মালামাল তৈরি হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বিশিক কর্মকর্তা মোঃ মশিয়ার রহমান। অভিযোগ ছিল তিনি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অবৈধ মালামাল তৈরিকারিদের সহযোগিতা করতেন। সম্প্রতি শিল্পনগরীর সিলগালাকৃত গোডাউন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জব্দকৃত কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ৯৯ মেট্রিকটন নিষিদ্ধ বালাইনাশক হাওয়া হয়ে গেছে।
আদালতের জব্দকৃত মালামাল দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন বিশিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা,কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন। সিলগালা গোডাউন থেকে এতোগুলো মালামাল কোথায় গেল,কি হল তার কোন তথ্য নেই বিশিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা মোঃ মশিউর রহমান এর কাছে। দায়িত্বে থাকা কৃষি কর্মকর্তা ও থানা পুলিশও এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না। গত বুধবার আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ ওই মালামাল ধ্বংস করতে এসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিলগালা কক্ষ খুললে মালামাল হাওয়া হয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ পায়।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জুন বিসিক শিল্পনগরীর ওই গোডাউন থেকে এসিআই কোম্পানির সরকারঘোষিত নিষিদ্ধ বালাইনাশক 'বিফার-৫ জি' সরিয়ে নেয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা যৌথ অভিযান চালান। এ সময় গোডাউনে থাকা ৯৯ মেট্রিকটন মালামাল জব্দ করে গোডাউনটি সিলগালা করা হয় এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় চাবি দেয়া হয়। আর গোডাউন তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয় শিল্পনগরী কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে।
সেই সাথে ঘটনার পর নিয়মিত মামলা দায়ের করে মালামালের মালিককে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ দুই বছর ধরে মামলাটি নীলফামারী বিশেষ আদালতে বিচারাধীন। সম্প্রতি আদালত নির্দেশ দেন নিষিদ্ধ ওই বালাইনাশকগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করার। সে অনুযায়ী নীলফামারী জুডিশিয়াল জুড়ি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান সৈয়দপুর থানা-পুলিশের সহায়তায় বিসিক শিল্পনগরীর ওই গোডাউনে আসেন। এখানে এসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিলগালা কক্ষ খুলে দেখতে পান মালামাল নেই। ভেতরে কাগজের কয়েকটি কার্টনসহ মাত্র ১২৩টি বালাইনাশকের প্যাকেট পাওয়া যায়। জব্দকৃত মালামাল না পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পনগরী কর্মকর্তার জিম্মায় অবশিষ্ট ১২৩টি প্যাকেট রেখে তার প্রত্যয়ন নিয়ে আদালতে জমা দেন।
এ বিষয়ে জানতে বিশিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা মশিয়ার রহমানকে মোবাইল করলে তিনি কোন মন্তব্য না করেই পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, চাবি ড্রয়ারে সিলগালা রাখা ছিল। তদারকির দায়িত্ব ছিল বিসিক কর্মকর্তা ও পুলিশের। জব্দকৃত মালামালের মালিক মো: মনোয়ার হোসেন। এর আগেও ওই মনোয়ার হোসেন নকল মালামাল তৈরির কারণে জেল খেটেছেন। সচেতন মহল বলছেন কারা এ মালামাল চুরি করলো তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।