গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থেকে নাটোরের লালপুরে আড়াই কেজি গাঁজা সরবরাহ করতে এসে পুলিশের চেকপোস্টে ধরা পড়েছেন স্বামী-স্ত্রী। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাঁজার চালান গ্রহণকারী লালপুরের আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, একটি ডিসকভার ১০০ সিসি মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
চেকপোস্টে তল্লাশিতে গাঁজা উদ্ধার
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামের আহসান হাবীব (৪৫) এবং উত্তর ফরিদপুর গ্রামের আরফিনা বেগম (৩৪)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা স্বামী-স্ত্রী। অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তি নাটোরের লালপুর উপজেলার মহেষপুর গ্রামের মো. রাজিব শেখ (৩৫)।
পুলিশ জানায়, লালপুর থানার এসআই আল মাসুম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শুক্রবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপালপুর বেলগেটসংলগ্ন হযরত শাহ সুফী বোরহান উদ্দিন বাগদাদী (রহ.) ওরফে বুড়া পীর সাহেবের মাজার, জামে মসজিদ ও দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার সামনে পাকা সড়কে চেকপোস্ট পরিচালনা করছিলেন। এ সময় বনপাড়ার দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তাতে থাকা এক পুরুষ ও এক নারীকে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের চালক ও নারী আরোহীর মাঝখানে থাকা নেভি ব্লু রঙের জিন্স কাপড়ের একটি লেডিস ব্যাগ পাওয়া যায়। ব্যাগটি খুলে পলিথিন ও স্বচ্ছ টেপে মোড়ানো পাঁচটি পোটলা থেকে ২ কেজি ৫০০ গ্রাম শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গাঁজার চালান নেওয়ার কথা ছিল রাজিবের পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আহসান হাবীব ও আরফিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, গাঁজার চালানটি লালপুরের রাজিব শেখের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ লালপুরের মনিহারপুর এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে রাজিব শেখের শ্বশুর মহিবুল ইসলামের বসতবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার তিনজনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযানে গাঁজার পাশাপাশি পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন এবং গাঁজা বহনের ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আহসান হাবীবের থানার রেকর্ড পর্যালোচনা করে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও বগুড়ার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে। অন্যদিকে, রাজিব শেখের বিরুদ্ধেও কুড়িগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় লালপুর থানার এসআই আল মাসুম বাদী হয়ে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে উদ্ধারকৃত মাদক ও অন্যান্য আলামতসহ শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।