সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ছাত্র ইয়াসিন আরাফাত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। রবিবার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। ববি ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১১টা থেকে দ্বিতীয় দফায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের ববির সামনের সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে রাত আটটার দিকে চার দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করা হয়েছিলো।
জানা গেছে, রবিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজ এলাকায় বিআরটিসি বাস ও যাত্রীবোঝাই একটি মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। আহত মাহিন্দ্রা যাত্রীদের মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত গুরুত্বর আহত হন।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে তিনি সেখানে মৃত্যুবরন করেন। এ ঘটনায় রবিবার রাত ১১টার দিকে ছাত্ররা দ্বিতীয় দফায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভুমিকা সরকার বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে রাস্তা মেরামতসহ নানা ধরনের দাবি জানালেও তা পূরণ করা হয়নি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস হলো রক্তপাত না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু হয় না। এ ব্যপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান রাতে সোয়া ১১টার দিকে বলেন, আমি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছি। ইয়াসিন মারা গেছেন। তার মরদেহ নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বরিশাল মহানগর পুলিশের বন্দর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধের বিষয়টি উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এদিকে অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে চরম দুর্ভোগে পরেছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন-বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে তাদের চার দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-আহত শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ঘাতক পরিবহনের চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মহাসড়ক মেরামত করা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস সার্ভিস চালু করা এবং ক্যাম্পাসের উভয় পাশে ফুটপাত নির্মাণ ও তা চালু করা।