একদিকে পাসের হারে বড় ধস, অন্যদিকে জিপিএ-৫ অর্জনে উল্টো ঊর্ধ্বগতি-সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলে দেখা গেছে এমনই এক বৈপরীত্য। গত পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার পাসের হার নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে, যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। আর ২০২২ সালের ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশের তুলনায় পাঁচ বছরে পাসের হার কমেছে ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।
২০২৬ সালে সিলেট বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ৮৯ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। অথচ ২০২৫ সালে ১ লাখ ২ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিলেন ৭০ হাজার ৯১ জন। তবে পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫-এর হিসাবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৬১৪ জন, এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ২২২ জন। যদিও ২০২২ সালের ৭ হাজার ৫৬৫ জনের তুলনায় এ সংখ্যা এখনও অনেক কম।
বিভাগভেদে ফলাফলেও রয়েছে বড় পার্থক্য। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সর্বোচ্চ ৮০ দশমিক ৩২ শতাংশ, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে সর্বনিম্ন ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৮১ দশমিক ৩১ শতাংশ, ছাত্রীদের ৭৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ছাত্রীদের পাসের হার ৫০ দশমিক ২৯ শতাংশ হলেও ছাত্রদের ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও এগিয়ে ছাত্রীরা-ছাত্রীদের পাসের হার ৬৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ, বিপরীতে ছাত্রদের ৬২ দশমিক ১৮ শতাংশ।
সিলেট বোর্ডের এবারের ফলাফল তাই একদিকে সামগ্রিক সাফল্যে বড় পতনের চিত্র তুলে ধরেছে, অন্যদিকে মেধার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি জিপিএ-৫ অর্জনে দেখিয়েছে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন। পাঁচ বছরের ধারাবাহিক পরিসংখ্যানে পাসের হার ক্রমাগত নিম্নমুখী হলেও ২০২৬ সালে জিপিএ-৫-এর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। ফলে এবারের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পাসের হার কমা ও জিপিএ-৫ বাড়ার এই ব্যতিক্রমী বৈপরীত্য।