আবুল কালাম আযাদের আপিল চলবে কি না, শুনানি ৩১ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদন | প্রকাশ: ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
আবুল কালাম আযাদের আপিল চলবে কি না, শুনানি ৩১ আগস্ট
ছবি: সংগ্রহীত

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের করা আপিল চলবে কি না, সে বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আবুল কালাম আযাদ ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি পলাতক থাকা অবস্থায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটসহ আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটি প্রমাণিত হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে রায় ঘোষণার সময় আবুল কালাম আযাদ বিদেশে পলাতক থাকায় নির্ধারিত সময়ে তিনি আপিল করতে পারেননি। পরে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১৩ বছর পর তার আপিলের বিষয়টি আপিল বিভাগের সামনে আসে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আবুল কালাম আযাদ দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর তিনি সাজা স্থগিত চেয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তার দণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করে। তবে আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্ত দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আযাদ। পরে আপিলের প্রস্তুতির জন্য রায়ের সার্টিফায়েড কপি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চান তিনি। এরপর তিনি আপিল বিভাগে আপিল করেন। আপিলে বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছে।

এর আগে গত ১০ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের সময় চাওয়ার আবেদনের পর আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেছিলেন আপিল বিভাগ। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিষয়টি আবার আদালতে ওঠে।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী ৩০ দিনের পর আপিল করার সুযোগ নেই। তার ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ের বাইরে করা এই আপিল আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আবুল কালাম আযাদের পক্ষ থেকে সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের ‘কমপ্লিট জাস্টিস’ নীতির ভিত্তিতে আপিল করা হয়েছে। তবে কোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইনগত বিধান থাকলে সেখানে ওই অনুচ্ছেদ প্রয়োগের সুযোগ নেই বলে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান।

তিনি আরও বলেন, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যে আপিল করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট আইনের ওপর প্রাধান্য পেতে পারে না। এ কারণে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলটি খারিজের আবেদন করেছে।

অন্যদিকে আবুল কালাম আযাদের আইনজীবী নজিবুর রহমান মোমেন বলেন, স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কায় তা বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছিল। তার দাবি, মৃত্যুদণ্ডের মামলায় আপিলের বিষয়টি বিবেচনার ক্ষেত্রে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকা উচিত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, ৩১ আগস্ট আপিলটি গ্রহণযোগ্য কি না, সে বিষয়ে শুনানি হবে। আপিল গ্রহণ করা হলে এবং প্রসিকিউশনের আপত্তি খারিজ হলে সেদিনই মূল আপিলের শুনানি হতে পারে।

আবুল কালাম আযাদের আইনজীবী আদালতে ওই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালটি তৎকালীন সরকারের সময়ে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং ওই মামলার রায়ে ‘ট্রাভেস্টি অব জাস্টিস’ ও ‘মিসক্যারেজ অব জাস্টিস’-এর মতো বিষয় রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

আইনজীবী নজিবুর রহমান মোমেন বলেন, তারা আবুল কালাম আযাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার চান। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে