রাজধানী ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কড়া অবস্থানে নেমেছে ট্রাফিক পুলিশ। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী চালকদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক হাজার ৮৪১টি মামলা দায়ের করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। একইসঙ্গে নিয়ম না মানায় জব্দ করা হয়েছে শত শত গাড়ি, কিছু গাড়ি ডাম্পিং করা হয়েছে, আবার কিছু গাড়ি টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রেকারে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। বুধবার (১৯ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী।
বরাবরের মতোই এবারের অভিযানেও মূল লক্ষ্য ছিল বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল ঠেকানো। নগরীর প্রতিটি ট্রাফিক বিভাগেই আলাদাভাবে চালানো হয় এই অভিযান, যাতে কোনো এলাকা যেন নজরদারির বাইরে না থাকে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে পাঁচটি বাস, ছয়টি কাভার্ডভ্যান, একটি সিএনজি ও ৩১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৩৭টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে চারটি বাস, ১৮টি ট্রাক, চারটি কাভার্ডভ্যান, ১৫টি সিএনজি ও ৮৭টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মোট ১৬৭টি মামলা দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে, যেখানে ২১টি বাস, চারটি ট্রাক, ২০টি কাভার্ডভ্যান, ৬৫টি সিএনজি ও ১৮০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৫৩টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৪১টি বাস, ১৫টি ট্রাক, ১৬টি কাভার্ডভ্যান, ১৩টি সিএনজি ও একটি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৬২টি মামলা হয়েছে।
অন্যান্য বিভাগগুলোর মধ্যে ট্রাফিক-তেজগাঁওয়ে ১৬টি বাস, দুটি ট্রাক, পাঁচটি কাভার্ডভ্যান, ২৩টি সিএনজি ও ৭৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৬১টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ১০টি বাস, ৩০টি ট্রাক, ৫৮টি কাভার্ডভ্যান, ৩৫টি সিএনজি ও ১৩৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৬৬টি মামলা হয়েছে, যা মতিঝিলের পরই সংখ্যায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৪৫টি বাস, ১৯টি ট্রাক, আটটি কাভার্ডভ্যান, ৩৩টি সিএনজি ও ৯৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৮৭টি মামলা হয়েছে। আর ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৪০টি বাস, তিনটি ট্রাক, ছয়টি কাভার্ডভ্যান, ১০টি সিএনজি ও ৬০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২০৮টি মামলা দায়ের হয়েছে।
শুধু মামলা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি ট্রাফিক পুলিশ। নিয়ম অমান্যকারী ৫৮১টি গাড়ি ডাম্পিং করা হয় এবং ৩৩৩টি গাড়ি রেকার দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। ডিএমপির ভাষ্যমতে, রাস্তায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করা যানবাহনের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা চলমান থাকবে।
নিয়াজ মেহেদী জানান, ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এই অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। যানজট কমাতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের সচেতন করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু জরিমানা বা মামলা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো কঠিন। তবে নিয়মিত অভিযান চালু থাকলে চালকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।