ট্রেনে সৈয়দপুর থেকে ঢাকা লাগছে ১০ ঘন্টা

চিলাহাটি এক্সপ্রেসে যাত্রিসেবার মান কমার অভিযোগ

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
চিলাহাটি এক্সপ্রেসে যাত্রিসেবার মান কমার অভিযোগ

উত্তরাঞ্চলের মানুষের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃনগর ট্রেন চিলাহাটি এক্সপ্রেস। তবে সময়ের সঙ্গে ট্রেনটির যাত্রিসেবার মান কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিয়মিত যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দীর্ঘ সময় ট্রেনে কাটানো,এসি বগিতে মশার উপদ্রব, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং টিকিটের শ্রেণি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডাসহ নানা সমস্যায় ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।

সৈয়দপুর থেকে ঢাকা যেতে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। কখনো ১০ ঘণ্টা, আবার কখনো প্রায় ১১ ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। এতে বিশেষ করে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসার জন্য ঢাকাগামী যাত্রীরা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। বর্তমান প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী চিলাহাটি এক্সপ্রেস চিলাহাটি থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে সৈয়দপুরে প্রায় ৭টার দিকে পৌঁছে এবং ঢাকা পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় দুপুর ২টা ৫০ মিনিটের কাছাকাছি। অর্থাৎ সৈয়দপুর থেকে ঢাকার নির্ধারিত যাত্রাসময় প্রায় ৮ ঘণ্টা। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন দিনে ট্রেনের গতি কমে যাওয়া, পথে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও অন্যান্য কারণে যাত্রীরা আরও কয়েক ঘণ্টা ট্রেনে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

 ঢাকাগামী এক যাত্রি জানায়,সকাল ৭ টা ৮ মিনিটে তিনি চিলাহাটি এক্সপ্রেসে সৈয়দপুর স্টেশন থেকে উঠেন। আর ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে নামেন প্রায় ৫ টা। তার অভিযোগ, চিলাহাটি এক্সপ্রেসের এসি বগিতে যাত্রা করেও স্বস্তি মিলছে না। বগির ভেতরে মশার উপদ্রব রয়েছে। কোথাও কোথাও আসন ও আশপাশের স্থান অপরিষ্কার থাকায় যাত্রীরা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। দীর্ঘ সময়ের যাত্রায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে যাত্রীসেবার উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

আরেক যাত্রী বলেন,তিনি কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ৮ নম্বর প্লাটফর্ম থেকে চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠেন বিকেল ৫ টা ২৫ মিনিটে আর সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনে নামেন রাত প্রায় ৪ টা। এদিকে সাধারণ শ্রেণির টিকিট নিয়ে এসি বগিতে উঠে পড়া নিয়েও প্রায়ই যাত্রীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় প্রকৃত টিকিটধারী যাত্রীদের সঙ্গে অন্য যাত্রীদের কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এতে পুরো বগির পরিবেশ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে ট্রেনে হকারের সংখ্যাও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিয়মিত যাত্রীরা। বিশেষ করে বুট-বাদামসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রেতা ঘন ঘন বগিতে ওঠানামা করায় অনেক সময় যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দীর্ঘ যাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিও এতে প্রশ্নের মুখে পড়ছে। চিলাহাটি এক্সপ্রেস উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগের একটি মাধ্যম। ২০২৩ সালে চালু হওয়া এই আন্তঃনগর ট্রেনটি চিলাহাটি, ডোমার, নীলফামারী, সৈয়দপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের ঢাকার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছিল।

নিয়মিত যাত্রীদের দাবি, ট্রেনের সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ, এসি ও সাধারণ বগির পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত, মশার উপদ্রব বন্ধ, টিকিটবিহীন বা শ্রেণিবহির্ভূত যাত্রী নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনহীন হকার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যাত্রীদের প্রত্যাশা, চিলাহাটি এক্সপ্রেসকে শুধু নামেই আন্তঃনগর নয়, প্রকৃত অর্থেই দ্রুত, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব ট্রেনে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে