ঢাকার বাসযোগ্যতা তলানিতে

বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া সমাধান নেই

এফএনএস | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়া সমাধান নেই

আধুনিক নগরীর সম্ভাবনা নিয়ে একসময় গর্বিত ছিল ঢাকা। নদীঘেরা অবস্থান, দেশের কেন্দ্রস্থলে যোগাযোগের সুবিধা- সবই ছিল একটি প্রাণবন্ত রাজধানী গড়ে তোলার অনুকূল পরিবেশ। কিন্তু আজ আন্তর্জাতিক জরিপে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে অযোগ্য শহরগুলোর কাতারে ঠেকেছে। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সামপ্রতিক প্রতিবেদনে ১৭৩ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। এর মানে হলো, যুদ্ধবিধ্বস্ত নগরীর ঠিক ওপরে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের রাজধানী। বাসিন্দাদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতাই এই চিত্রকে সত্য করে তোলে। যানজট, দূষণ, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামোর দুর্বলতা-সব মিলিয়ে নাগরিক জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। উন্নয়নের নামে দালানকোঠা উঠেছে, কিন্তু মানুষের জন্য শ্বাস নেওয়ার জায়গা কমে গেছে। ঢাকার সংকটের মূল কারণ হলো অতিরিক্ত চাপ। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সবকিছু ঢাকামুখী হওয়ায় রাজধানী অতি জনবহুল হয়ে পড়েছে। এই প্রবণতা কমাতে বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য। দেশের অন্যান্য শহরে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ বাধ্য হয়ে রাজধানীতে না আসে। একই সঙ্গে নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে কঠোর নীতি গ্রহণ করতে হবে। আরও একটি বড় ঝুঁকি হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থান করছে ঢাকা, অথচ ভবন নির্মাণে নিরাপত্তা বিধি মানা হয় না। পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে, ফলে ভূগর্ভস্থ পানির সংকট বাড়ছে। জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। এসব প্রাকৃতিক ঝুঁকি নগরবাসীর জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। আমাদের মতে, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে হলে শুধু অবকাঠামো নয়, বরং পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। গণপরিবহন উন্নয়ন, সবুজ এলাকা সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং নাগরিক সেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ঢাকার বাসযোগ্যতা ফিরবে না। সরকারের সদিচ্ছা ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এই নগরী ধীরে ধীরে পরিত্যক্ত শহরে পরিণত হবে। আমাদের প্রত্যাশা, বিকেন্দ্রীকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক ঝুঁকি মোকাবিলার মাধ্যমে ঢাকা আবারও মানুষের জন্য বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরিত হবে।