ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

এফএনএস | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে এবং শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য ও জরিপ বলছে, পরিস্থিতিকে এখনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা না করলে বর্ষার মৌসুমে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে। চলতি বছরের জুলাই মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই ৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১১ জন আক্রান্ত হওয়ার এই প্রবণতা জুনের তুলনায়ও ঊর্ধ্বমুখী। একই সঙ্গে নগরের আটটি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে জরিপে প্রতি চারটি বাড়ির একটিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান ব্যবস্থায় আরও কার্যকরতা প্রয়োজন। নগরবাসীর একাংশের অভিযোগ, নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম সব এলাকায় সমানভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন দাবি করছে, জনবল বৃদ্ধি, ফগার মেশিন সচল রাখা এবং উন্নতমানের ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাস্তবতা যাচাই এবং জনগণের আস্থা নিশ্চিত করতে মশকনিধন কার্যক্রমের সময়সূচি, এলাকা ও অগ্রগতি আরও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রস্তুতির দিক থেকেও ইতিবাচক কিছু উদ্যোগ রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু কর্নার, অতিরিক্ত শয্যা, প্রয়োজনীয় কিট ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হাসপাতালের শয্যায় নয়, বরং রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশন বা স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে চলবে না। বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, ড্রেন, পরিত্যক্ত পাত্র এবং জমে থাকা পরিষ্কার পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল। তাই নাগরিক সচেতনতা ও ব্যক্তিগত দায়িত্বশীলতা সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণ ছাড়া এ লড়াইয়ে সফল হওয়া কঠিন। অতীতের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে অবহেলা করলে এর মূল্য অনেক বড় হতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে বিশেষ অভিযান, নিয়মিত লার্ভা জরিপ, কার্যকর ওষুধ প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা প্রস্তুতি-সবগুলো পদক্ষেপ একই সঙ্গে জোরদার করতে হবে। ডেঙ্গু এখন মৌসুমি নয়, জনস্বাস্থ্যের একটি স্থায়ী চ্যালেঞ্জ। সময়োপযোগী, সমন্বিত এবং জবাবদিহিমূলক উদ্যোগই পারে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।