আর্থিক খাতে সুশাসন, জবাবদিহি ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন অপরিহার্য। নিরীক্ষক ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একক তালিকাভুক্তি (সিঙ্গেল পয়েন্ট এনলিস্টমেন্ট) চালুর উদ্যোগ সেই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও উদ্যোগটি বাস্তবায়িত না হওয়া প্রশাসনিক সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে একটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পৃথকভাবে তালিকাভুক্ত হতে হয়। একই ধরনের তথ্য, নথি ও যোগ্যতার প্রমাণ বারবার জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি বছর আলাদাভাবে নবায়ন ফি পরিশোধ করতে হয়। এতে সময়, অর্থ ও প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ে, অথচ নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমে তেমন কোনো অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন হয় না। এ বাস্তবতায় একক তালিকাভুক্তি চালু হলে একই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি কমবে, সেবার দক্ষতা বাড়বে এবং নিরীক্ষা পেশাজীবীদের প্রশাসনিক ভোগান্তিও হ্রাস পাবে। এফআরসিকে কেন্দ্রীয় তালিকাভুক্তি কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি প্রয়োজনীয় অবস্থান জানিয়েছে। কিন্তু বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সুপারিশ না পাওয়ায় পুরো উদ্যোগটি আটকে রয়েছে। একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠানের বিলম্বে জাতীয় পর্যায়ের সংস্কার উদ্যোগ থমকে থাকা কাম্য হতে পারে না। তবে একক তালিকাভুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন খাতে নিরীক্ষার প্রকৃতি ও বিশেষায়িত প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে। তাই যদি কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশেষ যোগ্যতার শর্ত থাকে, তা একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এতে যেমন খাতভিত্তিক মানদণ্ড অক্ষুণ্ন থাকবে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতাও কমবে। বাংলাদেশে ব্যবসা সহজীকরণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আর্থিক প্রতিবেদনের মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে এমন সংস্কার সময়ের দাবি। ডিজিটাল সেবা, তথ্যের আন্তঃসংযোগ এবং সমন্বিত নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে হলে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একক তালিকাভুক্তি কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; এটি সুশাসন ও দক্ষ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার অংশ। তাই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার উচিত দ্রুত মতৈক্যে পৌঁছে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা। দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সংস্কারের গতি, পেশাজীবীদের কার্যক্রম এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর। এখন প্রয়োজন প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার।