এইচআইভির সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
এইচআইভির সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে

বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এইচআইভি (ঐওঠ) সংক্রমণের হার গত এক বছরে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সামপ্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে ১ হাজার ৮৯১ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে মরণব্যাধি এইডসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২১৯ জন। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, নতুন আক্রান্তদের একটি বড় অংশই অবিবাহিত তরুণ-তরুণী। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে নতুন শনাক্তদের মধ্যে ৪২ শতাংশই অবিবাহিত, যা আগের বছরের ৩১.৫ শতাংশের তুলনায় প্রায় ১০.৫ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সংক্রমণের এই উল্লম্ফন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। রাজধানীর বাইরের চিত্রও উদ্বেগজনক। যশোরে ২০২৫ সালে ৫০ জনের বেশি মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। কৌতূহল বা যৌনতা নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা, অসচেতনতা, সুরক্ষা সামগ্রী সম্পর্কে ধারণা না থাকা ইত্যাদি কারণে তরুণ-তরুণীদের  মধ্যে এইচআইভির সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছে। জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। সেগুলো হলো ইনজেক্টেবল ড্রাগের ব্যবহার। এতে একই সুচ একাধিকজন ব্যবহার করায় রক্তের মাধ্যমে সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। আছে ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ। অর্থাৎ কনডম ব্যবহার না করা, একাধিক সঙ্গী কিংবা সঙ্গীর স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে না জানা। যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে নীরবতাও এইচআইভি সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর কারণ হলো পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌনতা ও যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না হওয়া। অল্প বয়সে যৌনতার প্রতি ঔৎসুক্য বা কৌতূহল সব সময়ই ছিল ও আছে; কিন্তু এখন এর ভিন্ন ধরনের প্রকাশ দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন সমাজতত্ত্ব ও মনস্তত্ত্ববিদেরা। সমাজের পরিবর্তনগুলো খুব দ্রুত ঘটছে। প্রযুক্তির ব্যাপক বিকাশ এখানে ভূমিকা রাখছে। শিথিল হচ্ছে সামাজিক বন্ধন। নগরে আসছে নতুন নতুন মানুষ দ্রুত বিকশিত নগরায়ণের সঙ্গে। প্রযুক্তির হাত ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। আর এসবই আমাদের মূল্যবোধের ওপর একধরনের প্রভাব ফেলছে। প্রযুক্তির প্রসারের ফলে এতে অভিগম্যতা বাড়ছে তরুণদের। বলা যায়, অনেকটা বাধাহীন হয়ে গেছে। আবার এই জনগোষ্ঠীর ভেতরে আছে সচেতনতার অভাব, যৌনতা সম্পর্কে সঠিক ধারণারও অভাব। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত স্কুল পর্যায়ে যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা চালু এবং ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারের এখনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।