আবাসনশিল্পের সংকট

পরিকল্পিত নগরায়ণ ছাড়া পথ নেই

এফএনএস | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
পরিকল্পিত নগরায়ণ ছাড়া পথ নেই

বিশ্বের সবচেয়ে অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। এর অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ। রাজধানীর অনেক গলি-মহল্লায় জরুরি সেবা পৌঁছানোই সম্ভব নয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা হয়। একই চিত্র দেশের অন্যান্য শহরেও দেখা যায়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের প্রধান উপায় হলো পরিকল্পিত আবাসন। কিন্তু নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদ, করের চাপ এবং ড্যাপ ও নতুন ইমারত বিধিমালার অস্পষ্টতা আবাসনশিল্পকে গভীর সংকটে ফেলেছে। দেশের জিডিপিতে আবাসন ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বর্তমানে ফ্ল্যাট বিক্রি ৬২ শতাংশ কমে গেছে। নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও করবৃদ্ধির কারণে ব্যয় ৪৩-৪৪ শতাংশ বেড়েছে। ১৭-১৮ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারছে না। ফলে শিল্পের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়েছে। রিহ্যাব ও রাজউকের যৌথ আলোচনায় ড্যাপ ও ইমারত বিধিমালার সংশোধন, নকশা অনুমোদনের সময়সীমা কমানো এবং সেবাগুলো ডিজিটাল করার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। আমাদের মতে, আবাসনশিল্পকে বাঁচাতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কর ও সুদের চাপ কমানো, নির্মাণসামগ্রীর বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং নীতিমালার অস্পষ্টতা দূর করা জরুরি। একই সঙ্গে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে আবাসন খাতকে সহযোগিতা করতে হবে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নগরায়ণের সঙ্গে পরিবেশ ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দেওয়া। ঢাকার মতো শহর ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে, ফলে ভবিষ্যতে পানির সংকট আরও বাড়বে। জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আবাসনশিল্পকে টেকসই করতে হলে শুধু ভবন নয়, বরং নিরাপদ নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, আবাসনশিল্পের সংকট নিরসনে সরকার, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও সেবা সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করবে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ছাড়া ঢাকার বাসযোগ্যতা ফিরবে না।