পোশাকশিল্পে কর্মসংস্থান ও প্রতিযোগিতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

এফএনএস | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
পোশাকশিল্পে কর্মসংস্থান ও প্রতিযোগিতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্প। রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ এবং লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে এ খাতের সরাসরি সম্পর্ক। তাই এ শিল্পে কর্মসংস্থান হ্রাস, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া কিংবা প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাওয়ার যে কোনো ইঙ্গিত অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং প্রায় ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। যদিও একই সময়ে নতুন কারখানাও চালু হয়েছে এবং শিল্পে নতুন বিনিয়োগ এসেছে, তবুও কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কারণ একটি শিল্পের প্রকৃত শক্তি শুধু কারখানার সংখ্যা দিয়ে নয়, টেকসই কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার সক্ষমতা দিয়েই মূল্যায়িত হয়। পোশাকশিল্প বর্তমানে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ নীতিগত জটিলতা শিল্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। সময়মতো উৎপাদন ও রপ্তানি নিশ্চিত করতে না পারলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে আরও বড় অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। রপ্তানি এখনো স্থিতিশীল রয়েছে এবং নতুন কারখানা চালু হওয়ার ধারাও অব্যাহত আছে। অনেক শ্রমিক অন্য কারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। এসব তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে খাতটি এখনো সম্ভাবনাময়, তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং শিল্পবান্ধব নীতিগত পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়নের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। জ্বালানি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি, পুরোনো কারখানার আধুনিকীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধি শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে পারে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে, দক্ষতা বাড়বে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বহু প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। এই অর্জন ধরে রাখতে সরকার, উদ্যোক্তা, ব্যাংকিং খাত ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। কর্মসংস্থান রক্ষা, বিনিয়োগের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ শিল্পকে আরও টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলাই এখন সময়ের দাবি।