সড়ক দুর্ঘটনা

পরিসংখ্যান নয়, প্রয়োজন কার্যকর প্রতিরোধ

এফএনএস | প্রকাশ: ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
পরিসংখ্যান নয়, প্রয়োজন কার্যকর প্রতিরোধ

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন একটি দীর্ঘস্থায়ী জননিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন এক হাজার ৩২৩ জন। একই সময়ে রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনাসহ মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৫১৩ জনে। যদিও এই পরিসংখ্যান গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত, তবুও এটি দেশের পরিবহন ব্যবস্থার বিদ্যমান ঝুঁকির একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। প্রতিবেদনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার উচ্চ হার। জুন মাসে মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ঘটেছে মোটরসাইকেলকে কেন্দ্র করে। একই সঙ্গে চালক, পথচারী, শিক্ষার্থী, শিশু ও নারীদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাণহানি দেখায় যে, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির সমস্যা নয়; এটি সমাজের প্রায় সব স্তরের মানুষকে সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মুখোমুখি সংঘর্ষ, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালনা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য, অবকাঠামোগত ত্রুটি এবং মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এসব কারণ নতুন নয়। বরং বহু বছর ধরেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে, বিদ্যমান আইন, তদারকি ও প্রয়োগব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। অবশ্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করা, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি। পাশাপাশি পথচারী পারাপারের নিরাপদ ব্যবস্থা, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত নজরদারিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিটি সংখ্যা একটি পরিবারে অপূরণীয় ক্ষতির প্রতীক। তাই দুর্ঘটনাকে কেবল মাসিক পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে চলবে না। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিক-সবার সম্মিলিত দায়িত্ববোধ ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমেই এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি মানুষের জীবন রক্ষার মৌলিক অঙ্গীকার।