বরিশালের মুলাদী উপজেলায় মাটির চুলার আগুন থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই ভাইয়ের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের (নাতিরহাট) মিয়ারচর গ্রামের নিয়াজ ফকিরের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন মিয়ারচর গ্রামের নিয়াজ ফকিরের ছেলে জাহিদ হোসেন ও তার ভাই মেহেদী হাসান। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে জাহিদ হোসেনের মা পেয়ারা বেগম বসতঘর লাগোয়া রান্নাঘরে মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে ভাত রান্না করছিলেন। রান্না বসিয়ে রেখে তিনি পার্শ্ববর্তী একটি বিলে নিজেদের গরু দেখতে যান। এ সময় জ্বলন্ত চুলা থেকে আগুন ছিটকে পাশে রাখা শুকনো পাটখড়িতে লাগে। মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন দ্রুত পাশের মেহেদী হাসানের ঘরেও লেগে যায়। আগুনের তীব্রতায় স্থানীয়রা চেষ্টা করেও নেভাতে ব্যর্থ হন। নদী পাড় হতে না পেরে মুলাদী ফায়ার সার্ভিসের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারায় টিনের তৈরি দুটি ঘর আসবাবপত্রসহ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত জাহিদ হোসেন বলেন, 'আগুনে পুড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। চুলা থেকে আগুন লেগে মুহুর্তেই আমাদের দুই ভাইয়ের ঘর পুড়ে গেল। কিছুই রক্ষা করতে পারলাম না। আমাদের থাকার জায়গা আর কিছু রইল না।' ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, জাহিদের নগদ দেড় লাখ টাকা টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, ১২ মন পাট এবং ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ অগ্নিকাণ্ডে তাদের দুই ভাইয়ের প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শায়লা শারমিন মিম্মু জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তাদের সহায়তার জন্য বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। স্থানীয়রা ব্যক্তিগতভাবেও তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার জানান, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি জেনেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।