চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমিতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে শুরু হয়েছে দশ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব-২০২৬। থিয়েটার ফোরাম, চাঁদপুরের আয়োজনে ২২ আগস্ট থেকে আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় নাট্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধান অতিথি হিসেবে এই নাট্যোৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন বিএনপি মনোনীত চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন থিয়েটার ফোরাম চাঁদপুরের সভাপতি হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, নাট্যকার ও নির্দেশক মইনুদ্দিন লিটন এবং চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নাট্য সংগঠক এমআর ইসলাম বাবু। এ সময় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ঠজন, সাধারণ দর্শক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক তাঁর উদ্দীপনামূলক বক্তব্যে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রসার এবং যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিমুখী করার ওপর জোরালো গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন-
"চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন মানেই একসময় রূপালী আর কৃষ্ণা দিদির মতো গুণী শিল্পীদের কথা মনে পড়ত। গত আড়াই বছরের পথচলায় আজ আমি এই সংস্কৃতি অঙ্গনে প্রায় একশ’র মতো রূপালী ও কৃষ্ণা দিদির মতো নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী দেখতে পাচ্ছি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক লক্ষণ।"
সংস্কৃতি কর্মীদের সরকারি সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলা ও উপজলায় নাট্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীগুলো অত্যন্ত কষ্ট করে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বার্ষিক বাজেটে নিয়মিত অনুদানের ব্যবস্থা করা উচিত। বর্তমান সরকার এই নাট্যকর্মী ও শিল্পীদের পাশে রয়েছে। মাদক নির্মূল ও যুবসমাজ নিয়ে তিনি কঠোর ও আশাবাদী বার্তা দিয়ে বলেন-
"আজকে খেলাধুলার দর্শক বা মাদক প্রতিযোগিতায় দর্শকের অভাব হতে পারে, কিন্তু মাদকমুক্ত যুবসমাজ গঠনে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। যারা মাদকের সাথে যুক্ত, তাদের জন্য দুটি জায়গাই খোলা-খেলার মাঠ এবং সংস্কৃতি অঙ্গন। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে শীতের শুরুতেই সব সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সাথে আলোচনা করে ওয়ার্ডভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।"
তিনি আরও জানান, চাঁদপুরে একটি আধুনিক থিয়েটার নির্মাণ এবং তরুণদের জন্য কফি হাউজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে এবং তিনি সবসময় সাংস্কৃতিক কর্মীদের পাশে থাকবেন।
উৎসবের অনুষ্ঠানসূচি (সংক্ষিপ্ত):
২২ আগস্ট: নৃত্যানুষ্ঠান ও বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর নাটক 'গিট্টু'।
২৩ আগস্ট: সুরধ্বনি সংগীত একাডেমী ও মেঘনা থিয়েটারের নাটক 'ভাঙ্গা গ্লাস'।
২৪ আগস্ট: রংধনু সৃজনশীল নৃত্য সংগঠন ও অরুপ নাট্যগোষ্ঠীর নাটক 'প্রেমের আলো'।
২৫ আগস্ট: বহুবচন আবৃত্তি সংগঠন ও স্বরলিপি নাট্যগোষ্ঠীর নাটক 'স্বপ্ন-দুঃস্বপ্ন'।
২৭ আগস্ট: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
২৮ আগস্ট: নিত্যধারা নৃত্যানুষ্ঠান ও বর্ণমালা থিয়েটারের নাটক 'গ্রন্থিক'।
২৯ আগস্ট: প্রান্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও চাঁদপুর ড্রামার নাটক 'বৌমা'।
৩০ আগস্ট: সপ্তরূপা নৃত্য শিক্ষালয় ও নাটমঞ্চের নাটক 'তামাশা'।
৩১ আগস্ট: পুরান বাজার স্বদেশ ও বঙ্গজ সাহিত্য সংগঠন এবং অনুপম নাট্যগোষ্ঠীর নাটক 'পুনর্জন্ম'।
১ সেপ্টেম্বর: নৃত্যাঙ্গন ও চাঁদপুর সরকারি কলেজ নাট্যমঞ্চের নাটক 'মহুয়া'।
২ সেপ্টেম্বর (সমাপনী): সপ্তসুর সংগীত একাডেমীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা, সংবর্ধনা এবং অনন্যা নাট্যগোষ্ঠীর নাটক 'জল রূপালী'।