ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পদ্মা নদীর গোপালপুর টু মৈনট আন্তঃজেলা ঘাটে এ বছর কমেছে ইজারা মূল্য, বেড়েছে যাত্রী প্রতি ভাড়া মূল্য, বেড়েছে চৌহদ্দী সিমানা। ঐতিহ্যবাহী এ ঘাটের ইজারা মূল্য কমিয়ে এ বছর মাত্র ৭০ লাখ টাকায় ডাক দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালে ঘাটের সর্বশেষ ইজারা মূল্য ছিল ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। বিগত তিন বছর উক্ত ঘাটটি ইউএনও অফিসের নিয়ন্ত্রনে খাস কালেকশন করা হয়েছে। এ বছর সেই ঘাটটি স্থানীয় বিএনপি’র দু’একজন নেতাকর্মী ঢাকার কমিশন অফিসের সাথে গোপনে আতাত করে মাত্র ৭০ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাই ঘাটের ইজারা মূল্য প্রায় ১২ ভাগ কমিয়ে দেওয়ার পরও লঞ্চ ও স্পিডবোটে বাড়ানো হয়েছে যাত্রী প্রতি ভাড়া মূল্য। একই সাথে ঘাটের চৌহদ্দী সিমানাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে পদ্মা পারে বাড়তি সিমানায় চলমান অন্যান্য ঘাটগুলোর রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সরকার।
জানা যায়, গোপালপুর টু মৈনট ঘাটে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পদ্মা পারাপারে স্পিডবোটে যাত্রী প্রতি ভাড়া ছিল ১৫০ টাকা। আর লঞ্চে যাত্রী প্রতি ভাড়া ছিল ৭০ টাকা। সে সময় ইজারা মূল্য ছিল এ বছরের তুলনায় প্রায় ১২ গুন বেশী। সেই ঘাটটি এ বছর কম মূল্যে ইজারা প্রদানের পরও স্পিডবোটে যাত্রী প্রতি ভাড়া বাড়িয়ে ১৫০ টাকার স্থলে ১৮০ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। একই সাথে লঞ্চে যাত্রী প্রতি ভাড়া বাড়িয়ে ৭০ টাকার স্থলে ৮০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, পদ্মা নদীর এপারে উপজেলার গোপালপুর ঘাটের উত্তর দিকে পদ্মা পার এলাকা প্রায় ৫ কি.মি চৌহদ্দী বাড়িয়ে উপজেলার টিলারচর গ্রাম পর্যন্ত সিমানা নির্ধারন করা হয়েছে। একই সাথ গোপালপুর ঘাটের দক্ষিণ দিকে উপজেলার মাথাভাঙ্গা গ্রামের শেষ সিমানায় আরও ৫ কি.মি এলাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর পদ্মা নদীর অপর পারের মৈনট ঘাটের ঘাটের উত্তর দিকে পদ্মা পার এলাকা প্রায় ৫ কি.মি চৌহদ্দী বাড়িয়ে নয়া বাড়ী ঘাট পর্যন্ত সিমানা নির্ধারন করা হয়েছে। একই সাথে মৈনট ঘাটের দক্ষিণ দিকে আরও ৫ কি.মি এলাকা বাড়িয়ে বিলাসপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত সিমানা নির্ধারন করা হয়েছে। ফলে এ বছর গোপালপুর টু মৈনট ঘাটের দু’পার মিলে প্রায় ২০ কি.মি পদ্মা পার এলাকা সিমানা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বর্ধিত সিমানায় পদ্মা পারের অন্যান্য ঘাটগুলো এ বছর গোপালপুর টু মৈনট ঘাটের নিয়ন্ত্রনে চলে গেছে। ফলে সরকার অন্যান্য ঘাটের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। উপজেলার পদ্মা পারের অন্যান্য ঘাটগুলো হলো-হাজীডাঙ্গী গ্রামের আবজাল কাজীর ঘাট, এমপি ডাঙ্গী গ্রামের ঘাট, টিলারচর গ্রামের ঘাট ও পদ্মা পারের অপর পারে রয়েছে আরও দু’টি ঘাট। এসব ঘাট থেকে প্রতি বছর সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব পেতো। কিন্ত এ বছর গোপালপুর টু মৈনট ঘাটের চৌহদ্দী সিমানা বাড়ানোর ফলে মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সরকার। এ ব্যপারে রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, “গোপালপুর টু মৈনট আন্তঃজেলা ঘাটটি নিয়ন্ত্রন করেন কমিশন অফিস। সেখান থেকে এ বছর স্পিডবোটে যাত্রী প্রতি ভাড়া নির্ধরন করা হয়েছে ১৭৫ টাকা। আর লঞ্চে যাত্রী প্রতি ৮০ টাকা নির্ধারন করা হয়েছে। তবে স্পিডবোটে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও লাইফ জ্যাকেট ছাড়া যাত্রী পারাপার করলে ঘাট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে”।
আর গোপালপুর টু মৈনট ঘাটের সাবেক ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মোঃ শাহজাহান শিকদার বলেন, “৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকার ঘাট স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীরা ঢাকার কমিশনার অফিসের সাথে গোপনে আতাত করে মাত্র ৭০ লাখ টাকায় ইজারা এনে লুটপাট করে খাচ্ছে। তারা ঘাটের চৌহদ্দী সিমানা বাড়িয়ে সরকারের রাজস্ব আদায় কমিয়ে দিয়েছে। আবার তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাত দিয়ে ভাড়া বাড়িয়েছে। কিন্ত তেল তো খরচ হয় স্পিডবোট মালিকদের। সেই বোট মালিকদের যাত্রী প্রতি আগে দেওয়া হতো ১২০ টাকা করে আর এখন দেওয়া হয় ১১০ টাকা করে। এখানেও বোট মালিকদের ঠকানো হচ্ছে বলে তিনি জানান”। একই দিন উক্ত ঘাট ইজারাদারের এক অংশিদার মোঃ আজিজ মাষ্টার জানান,“ কমিশন অফিসের নির্দেশনা মতেই আমরা ভাড়া আদায় করে চলেছি”।