গণপতি চক্রবর্তীসহ চারজন হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) :
| আপডেট: ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম | প্রকাশ: ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
গণপতি চক্রবর্তীসহ চারজন হত্যার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ

রংপুর জিলা স্কুলের প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, রংপুর মহানগর শাখা। রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় নগরীর টাউন হল মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও জাহাজ কোম্পানি মোড় প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রূপ নেয়। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আযম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আল আমিন হাসান, মহানগর প্রচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, কোতোয়ালি থানা আমির মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, হাজিরহাট থানা আমির বেলাল হোসেন, মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সাজ্জাদ হোসাইনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, চারজন মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, মাদকের ভয়াল বিস্তার রোধে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাত্র দুজন মাদকসেবী কীভাবে একটি পরিবারের চারজন সদস্যকে হত্যা করতে সক্ষম হলো, সে বিষয়টিও গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এ সময় তিনি ঘটনার মূল কারণ খুঁজে বের করতে প্রশাসন ৪৮ ঘন্টার সময় বেঁধে দেন। সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আযম খান বলেন, গণপতি চক্রবর্তীসহ একটি পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং মাদক নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি কোনো মহল যেন হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে নগরীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন রংপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল ও ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখার সেক্রেটারি সাজ্জাদ হোসাইন। বক্তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। সমাবেশ শেষে নেতারা গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে