অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। সোমবার (২৪ আগস্ট) মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ড ২-এ ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন একাডেমিকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে ইরফান শুক্কুরের দল। বোলিংয়ে মোহাম্মদ রুবেলের চার উইকেটের পর ব্যাট হাতে শামীম হোসেনের অপরাজিত ফিফটিতে ১৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ভিক্টোরিয়া একাডেমি ১৯.১ ওভারে ১৩১ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের হয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন রুবেল। বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান ২৮ রান খরচায় পান ৩ উইকেট। ভিক্টোরিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৪৯ রান করেন অধিনায়ক স্যাম হার্পার। উইল সাদারল্যান্ডের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রান।
জবাবে শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না বাংলাদেশের। ৩৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় এইচপি। হাবিবুর রহমান সোহান শূন্য, জিসান আলম ১১, আরিফুল ইসলাম ১৫ এবং সাব্বির রহমান ৫ রান করে ফিরে যান।
এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর ও শামীম হোসেন। পঞ্চম উইকেটে ৫১ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়ে তারা দলকে বিপদ থেকে বের করে আনেন। ইরফান ৩২ বলে ৪৩ রান করে আউট হলেও শামীম শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন।
৩৩ বলে ৫১ রানের ইনিংসে শামীম মারেন ২টি চার ও ৩টি ছক্কা। জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ২ রান, আর শামীমের ফিফটির জন্য প্রয়োজন ছিল ৫ রান। ওয়াইডের পর পরের বলে অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি স্লগ করে বিশাল ছক্কায় ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। একই সঙ্গে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়।
এর আগে ভিক্টোরিয়ার ইনিংসে শুরু থেকেই ধস নামান রুবেল। দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই কেম্পবেল কেলাওয়েকে বোল্ড করেন তিনি। পরের ওভারে একই ধরনের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে লিয়াম ব্ল্যাকফোর্ডকেও ফেরান এই স্পিনার।
পাওয়ার প্লেতে ভিক্টোরিয়া মাত্র ৩৭ রান তুলতে পারে। এরপর আক্রমণে এসে রকিবুল হাসান টানা দুই বলে দুই উইকেট নেন। টম রজার্সকে সীমানায় শামীমের ক্যাচ বানানোর পর প্রথম বলেই হ্যারি ডিক্সনকে স্টাম্পড করেন তিনি। একপর্যায়ে ৪০ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ভিক্টোরিয়া।
সাদারল্যান্ড ২৫ বলে ৩০ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তবে রুবেলের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি। অন্য প্রান্তে অধিনায়ক হার্পার লড়াই চালিয়ে যান। সপ্তদশ ওভারে ফিরে রুবেল হ্যারি হোকস্ট্রা ও অস্টিন আনলেজার্ককে বোল্ড করলে ভিক্টোরিয়ার রান দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১০৪।
শেষ দিকে হার্পার দলকে ১৩০ পার করেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ৪৯ রান করেন তিনি। তাতেও বড় সংগ্রহ গড়া হয়নি ভিক্টোরিয়ার।
১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশের টপ অর্ডারও নিজেদের বাজে শটে একের পর এক উইকেট হারায়। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে জায়গা বানিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপারের ক্যাচ হন সোহান। এরপর দুটি ছক্কা মারলেও আউট হওয়ার শটটি বাজে হওয়ায় আরিফুল ফিরে যান। জিসানও শর্ট বলে একটি ছক্কা মারার পর পরের বলেই একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন।
আগের ম্যাচে ফিফটি করে দলকে জেতানো সাব্বির রহমান এবার ১৪ বলে ৫ রান করে বোল্ড হন। অষ্টম ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ৪ উইকেটে ৩৭।
এই অবস্থায় তিন রানে জীবন পান ইরফান। তার ক্যাচ ধরে ফেলেও ফেলে দেন স্যাম এলিয়ট। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শামীমকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন বাংলাদেশ এইচপি অধিনায়ক। শামীম শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। উইল সাদারল্যান্ডকে কাট করে চার এবং ফ্লিক করে ছক্কা মারেন তিনি।
ইরফানও পরে রানের গতি বাড়ান। সাদারল্যান্ডকে টানা দুই বলে ছক্কা হাঁকান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৪৩ রান করে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন। তবে তখন বাংলাদেশের জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা। আব্দুল গাফফার সাকলাইনকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজ শেষ করেন শামীম।
এই জয়ে টুর্নামেন্টে টানা তিন ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ এইচপি। এর আগে নেপাল ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৯ উইকেটে এবং হোবার্ট হারিকেনস একাডেমির বিপক্ষে ৩ উইকেটে জয় পেয়েছিল তারা। তিন ম্যাচের সবকটিতে জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও উঠে গেছে বাংলাদেশ এইচপি।
টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন রুবেলও। প্রথম ম্যাচে চার উইকেট এবং দ্বিতীয় ম্যাচে তিন উইকেট নেওয়ার পর ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে আরও চার উইকেট পেয়েছেন তিনি। তিন ম্যাচে তার মোট শিকার ১১টি।
বাংলাদেশ এইচপি তাদের পরের ম্যাচ খেলবে মঙ্গলবার। প্রতিপক্ষ অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমি।