লা লিগার নতুন মৌসুমে দুর্দান্ত শুরু করেছে বার্সেলোনা। রাফিনিয়ার জোড়া গোল ও এক অ্যাসিস্ট, অভিষেকে করিম আডেইয়েমির গোল এবং অ্যান্থনি গর্ডনের দুটি অ্যাসিস্টে এলচেকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। এই জয়ে বার্সেলোনার হয়ে পেনাল্টি থেকে রাফিনিয়ার গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯, আর নয়টিই এসেছে সফল স্পট কিকে।
গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা এবার লা লিগায় প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল মৌসুম শুরুর আট দিন পর। এলচের মাঠে শুরু থেকেই বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধে খুব একটা দাপট দেখাতে পারেনি কাতালান ক্লাবটি। পুরো ম্যাচে ৫২ শতাংশ পজেশন রেখে তারা ১১টি শট নেয়, যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে। এলচের সাত শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে।
৭ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগটি পেয়েছিল বার্সেলোনা। নিজেদের অর্ধ থেকে এরিক গার্সিয়ার বাড়ানো উঁচু বল ধরে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে একা পেয়েও শট বাইরে মারেন লামিন ইয়ামাল।
এর সাত মিনিট পর অবশ্য এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। বক্সে রাফিনিয়াকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় দলটি। স্পট কিক থেকে গোল করে ১৪ মিনিটে নিজের ও দলের প্রথম গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
এই পেনাল্টি ছিল বার্সেলোনার হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে রাফিনিয়ার নেওয়া নবম। নয়বারই তিনি বল জালে পাঠিয়েছেন। ২০২২-২৩ মৌসুমে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর লা লিগার কোনো খেলোয়াড় সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পেনাল্টি থেকে তার চেয়ে বেশি গোল করতে পারেননি।
পেনাল্টিটি অবশ্য রাফিনিয়া নিজেই আদায় করেছিলেন। ফেরমিন লোপেজের থ্রু-বল ধরে বক্সে ঢোকার সময় তাঁকে ফাউল করেন ভিক্তর চুস্ত।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। লামিন ইয়ামালের কাছ থেকে বল পেয়ে রাফিনিয়া সেটি বাড়িয়ে দেন বক্সে থাকা করিম আডেইয়েমিকে। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করে বার্সেলোনার হয়ে নিজের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচেই জালের দেখা পান ২৪ বছর বয়সী জার্মান উইঙ্গার।
বিরতির আগে আরও একটি সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। রাফিনিয়ার ফ্রি-কিকে মার্ক বের্নাল ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে ভলি নিলেও সেটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
প্রথমার্ধে দুই গোল করলেও আক্রমণে বার্সেলোনার ধার ছিল সীমিত। গোল দুটি ছাড়া চারটি শটের আর কোনোটি লক্ষ্যে রাখতে পারেনি তারা। এলচের দুটি শটও ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য চেনা রূপে ফিরতে শুরু করে বার্সেলোনা। শুরুতেই আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন ইয়ামাল। এরপর ৬৫ মিনিটে তাঁকে ও আডেইয়েমিকে তুলে অ্যান্থনি গর্ডন ও দানি ওলমোকে মাঠে নামান কোচ ফ্লিক।
অভিষেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন গর্ডন। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোলে সরাসরি অবদান রাখেন ইংলিশ উইঙ্গার।
৬৭ মিনিটে গর্ডনের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনিয়া। এরপর ৭১ মিনিটে বক্সে ঢুকে নিজে শট নেওয়ার সুযোগ পেয়েও বল পাশে থাকা ফেরমিন লোপেজকে বাড়িয়ে দেন গর্ডন। সহজেই বল জালে পাঠান লোপেজ।
বার্সেলোনার হয়ে মূল দলে খেলা গত ১০০ বছরের তৃতীয় ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে গর্ডনের অভিষেকও তাই স্মরণীয় হয়ে ওঠে। এর আগে এই কৃতিত্ব ছিল গ্যারি লিনেকার ও মার্কাস রাশফোর্ডের।
ম্যাচের শেষ দিকে আরও একবার গোলের দেখা পান লোপেজ। ৭৯ মিনিটে এস্পার্তের পাস বক্সের বাইরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভেতরে ঢুকে নিখুঁত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। তাতেই ৫-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় বার্সেলোনার।
পুরো ম্যাচে এলচে বার্সেলোনাকে খুব একটা চাপে ফেলতে পারেনি। স্বাগতিকদের সবচেয়ে ভালো সুযোগগুলোর একটি আসে ফাকুন্দো বুয়োনানোত্তের শটে, যা বারে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনার আক্রমণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে।
ম্যাচে বার্সেলোনার জন্য একমাত্র অস্বস্তির বিষয় ছিল গাভির চোট। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডান হাঁটুতে সমস্যা হওয়ায় তাঁকে তুলে নেন ফ্লিক। তাঁর জায়গায় মাঠে নামেন পেদ্রি। পরে গাভিকে মাঠের পাশে দেখা গেলেও চোটের মাত্রা জানতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন বলে ম্যাচ শেষে জানা যায়।
বার্সেলোনার নতুন সাইনিং রদ্রি অবশ্য এই ম্যাচের স্কোয়াডেই ছিলেন না।
এলচের বিপক্ষে এই জয়ে লা লিগায় টানা ১১টি ম্যাচ জিতল বার্সেলোনা। টানা তৃতীয় লিগ শিরোপা জয়ের অভিযানে শুরুতেই এমন বড় জয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে দলটির।