ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে যশরা ইউনিয়নে পানির ট্যাঙ্কে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে একই পরিবারের ৬ জনকে অচেতনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নগদ ১২ লাখ টাকা, মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনাটি গত রোববার (২৩ আগষ্ট) গভীর রাতে উপজেলার যশরা ইউনিয়নের কাঁঠাল ডিঙ্গা গ্রামে ঘটে। পরে স্থানীয়রা অচেতন অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহত বাড়ির মালিক সৌদি প্রবাসী মোঃ সিরাজুল ইসলাম (৫০) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্য আহতরা হলেন- বাড়ির মালিকের স্ত্রী মল্লিকা আক্তার (৪০), মেয়ে সুমি আক্তার (২১) ও সোমা আক্তার (১৩) , মেয়ে জামাই শরীফ আহম্মেদ (২৬) এবং প্রতিবেশী আত্বীয় লুৎফা আক্তার (৪০) ।
জানা যায়, রোববার দুপুরে পুকুর থেকে মাছ মেরে রান্নার শেষে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বিকাল সাড়ে চারটায় দুপুরের খাবার খাওয়ার পর থেকে অচেতন হয়ে পড়েন। রাত ৩ টায় বড় মেয়ে সুমি আক্তারের শিশু সন্তানের কান্নাকাটিতে জেগে উঠেন তারা। কিন্তু শারীরিক ভাবে প্রচন্ড দুর্বল অনুভব করার উঠতে পারছিলেন না। ঘরের ভেতর সব আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। বড় মেয়ের জামাই শরীফ আহম্মেদ ঘটনায় সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমি রাতে গফরগাঁও থেকে শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে সবাইকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পাই। স্বাভাবিক অসুস্থতা মনে করে নিজেও খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি ।
ধারণা করছি দিনের যে কোনো সময় দুর্বৃত্তরা সুযোগ বুঝে পানির ট্যাঙ্কে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে রাখে। পরে ঐ পানি পান করে পরিবারের সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ সুযোগে রাতের বেলা বারান্দার লোহার গ্রীল কেটে ঘরে ঢ়ুকে আলমারিতে রাখা জমি ত্রুয়ের ১২ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এঘটনায় বিষয়ে গফরগাঁও থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান সেখ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে । ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে ।