ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় প্রস্তাবিত 'সন্তোষপুর ইকোপার্ক বাস্তবায়নে সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি করায় উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের মাবো আনন্দ ও আশার সঞ্চর হয়েছে। ইকোপার্কটি বাস্তবায়িত হলে এটি কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং পুরো ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আর্থ-সামাজিক চিত্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ইকোপার্ক বাস্তবায়নে যেসব সুবিধা পাবেন স্থানীয়
বাসিন্দারা যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটের উন্নয়ন: পর্যটকদের গমনাগমন সহজ করতে এলাকার জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটগুলোর দ্রুত সংস্কার ও পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে পুরো উপজেলার যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ব্যাপক কর্মসংস্থান: পার্ক কেন্দ্রিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, গাইড ও হস্তশিল্পের প্রসারের মাধ্যমে শত শত বেকার যুবকের সরাসরি ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্থানীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধি: দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন বাড়লে স্থানীয় ছোট বড় ব্যবসায়ীদের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং জীবিকা অর্জনের পথ সহজ ও সুগম হবে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ। বন বিভাগের জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ, বনাঞ্চল ও বিলুপ্তপ্রায় পশুপাখির সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। স্বাস্থ্যকর বিনোদন: স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠবে।
নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া ও বক্তব্য: ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন বলেন, ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা হলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এর মাধ্যমে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ফলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আক্তারুল আলম ফারুক বলেন, ফুলবাড়িয়ার সন্তোষপুরে ইকোপার্ক ঘোষণা করায় বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে ফুলবাড়িয়ার আপামর জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমাদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার লক্ষ্যে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচির পায়তারা করছে। সন্তোষপুরে অবশ্যই ইকোপার্ক নির্মিত হবে, কোনো বাধাই তা আটকাতে পারবে না।
কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য আব্দুল করিম সরকার বলেন, "আমার দল বিএনপি এবং আমাদের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আমাদের ফুলবাড়িয়ার সন্তোষপুরে ইকোপার্ক ঘোষণা করায় আমাদের বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে ফুলবাড়িয়ার আপামর জনগণের পক্ষ থেকে এবং আমাদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। ফুলবাড়িয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠিত হলে ফুলবাড়িয়ার মানুষ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বিভি-ভাবে এর সুফল লাভ করবে। সরকারের গৃহীত কর্মসূচি হিসেবে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে আমরা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর যড়যন্ত্র ও কায়েমী স্বার্থবাদী মনোভাবের মোকাবেলা করতে বদ্ধপরিকর। ফুলবাড়িয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক অধ্যাপক জসীমউদ্দীন বলেন, ফুলবাড়িয়া উপজেলার সন্তোষপুরে ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠিত হবেই, ইনশাআল্লাহ। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের এই ইকোপার্ক স্থাপনের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে এর সুফল পাবে ফুলবাড়িয়ার জনগণ লাভ করবে।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক আহ্বায়, বিএনপির সম্মানিত সদস্য এবি ছিদ্দিক বলেন, ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠা হলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এর মাধ্যমে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। এবং অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।