মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০১:১২ পিএম
মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়া বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়: শফিকুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশ যোগ দিলে তা দেশের প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া নিজস্ব সিদ্ধান্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে অন্য কারও অস্বস্তিতে ভোগার প্রয়োজন নেই।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, “মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়। দেশ ও জাতির প্রয়োজন এবং স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অন্য কারও শ্বাসকষ্টে ভোগার প্রয়োজন নেই।”

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান সম্প্রতি একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিটি মক্কা প্যাক্ট বা মক্কা চুক্তি নামে পরিচিত।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় তিন দেশের মধ্যে চুক্তিটি সই হয়। এর আওতায় স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যেকোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। জোটভুক্ত কোনো দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে। পাশাপাশি তিন দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা একসঙ্গে কাজে লাগানোর লক্ষ্যও রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ১৯ মার্চ সৌদি আরবের রিয়াদে একটি ইসলামি সম্মেলনের সময় তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রায় এক বছর আলোচনার পর মক্কায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

এদিকে মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশ যোগ দিতে পারে বলে সম্প্রতি আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মত পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে।

তবে বাংলাদেশ এখনো এই জোটে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন তথ্য সূত্রগুলোতে নেই।

চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হলে সামরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কিছু সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটেই ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টিকে দেশের নিজস্ব প্রয়োজন ও স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে