মারা গেছেন অভিনেতা টিম কারি

এফএনএস বিনোদন | প্রকাশ: ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
মারা গেছেন অভিনেতা টিম কারি

রুপালি পর্দা ও মঞ্চের দ্যুতিময় উপস্থিতি থামিয়ে জীবনের মঞ্চ থেকে চিরবিদায় নিলেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা টিম কারি। গত মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলেসের তুলুকা লেকের নিজ বাসভবনে ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো’র ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার খ্যাত এই কালজয়ী শিল্পী। ২০১২ সালে স্ট্রোকের শিকার হয়ে দীর্ঘ দিন হুইলচেয়ারে জীবনযাপন করলেও অভিনয়ের প্রতি তার অনবদ্য ভালোবাসা ও সৃজনশীলতার কোনো কমতি ছিল না। অবশেষে শেষ হলো পাঁচ দশকের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য এক অভিনয় যাত্রা। ১৯৭৩ সালে লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট থিয়েটারে রিচার্ড ও'ব্রায়েনের ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো’ নাটক দিয়ে ড. ফ্র্যাঙ্ক-এন-ফার্টার চরিত্রে বাজিমাত করেন টিম কারি। ১৯৭৫ সালে এর চলচ্চিত্র রূপ মুক্তি পেলে তা বিশ্বজুড়ে কাল্ট ক্লাসিকে পরিণত হয় এবং সিনেমা হলের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে চলা ছবির রেকর্ড গড়ে। থিয়েটার থেকে সিনেমা সব মাধ্যমেই ছিল তার স্বচ্ছন্দ বিচরণ। স্টিফেন কিংয়ের রহস্যভিত্তিক ড্রামা ‘ইট’-এর (১৯৯০) ভয়ঙ্কর ক্লাউন ‘পেনিওয়াইজ’, ১৯৯৬ সালের ‘মুপেট ট্রেজার আইল্যান্ড’-এর লং জন সিলভার কিংবা ‘হোম অ্যালোন ২’-এর হোটেল ক্লার্ক প্রতিটি চরিত্রেই তিনি ঢেলে দিয়েছিলেন নিজস্বতার ছাপ। এ ছাড়া ‘অ্যানি’, ‘দ্য হান্ট ফর রেড অক্টোবর’ ও ‘ক্লু’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমায় তার অভিনয় আজও দর্শকমনে অমলিন। কেবল বড় পর্দায় নয়, ব্রডওয়ে মঞ্চেও তিনবার ঐতিহ্যবাহী টনি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হন এই গুণী অভিনেতা। ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ডের ওয়ারিংটনে জন্ম নেওয়া টিম কারির প্রথম কাজ ছিল ১৯৬৮ সালের বিখ্যাত মিউজিক্যাল ‘হেয়ার’। এর পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ভয়েস অ্যাক্টিং ও ভিডিও গেমের জগতেও ছিল তার অনায়াস পদচারণা। ২০০৮ সালের ভিডিও গেম ‘কমান্ড অ্যান্ড কনকার: রেড এলার্ট ৩’-এ সোভিয়েত প্রিমিয়ার চরিত্রে তার সংলাপ ইন্টারনেট জগতে মিম হিসেবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ২০১২ সালে স্ট্রোকের পর শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি থমকে যাননি। ভয়েস অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গত বছর প্রকাশ করেন তার আত্মজীবনী ‘ভেগাবন্ড’। তারকার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন তার সহশিল্পী ও বিশ্বজোড়া অনুরাগীরা। প্রখ্যাত অভিনেত্রী ক্যারল বার্নেট স্মৃতিচারণ করে বলেন, “তার মতো ভালোবেসে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করার ক্ষমতা আর কারও ছিল না।” সহশিল্পী রব স্নাইডার বলেন, “এক যুগের অবসান ঘটল, তার একটি ভ্রুর ভঙ্গিমা অনেক অভিনেতার পুরো শরীরের চেয়েও বেশি কথা বলত।”