বাউফলে চরে বিষপ্রয়োগ, ঘাস খেয়ে অসুস্থ্য ২৫ মহিষ, মারা গেছে তিনটি

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১২ পিএম
বাউফলে চরে বিষপ্রয়োগ, ঘাস খেয়ে অসুস্থ্য ২৫ মহিষ, মারা গেছে তিনটি

পটুয়াখালীর বাউফলে খাবারে বিষক্রিয়ায় ২৫টি মহিষ গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। তার মধ্যে তিনটি মহিষ মারা গেছেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার লাল চরে এ ঘটনা ঘটে। মহিষের রাখাল ও পশু চিকিৎসকরা প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছেন, চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছে। সেই ঘাস খেয়ে বিষক্রিয়ায় মহিষগুলো অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। যার মধ্যে তিনটি মারা গেছে। বেশ কয়েকটির অবস্থা আশঙ্কাজনক।

মহিষ মালিক, রাখাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লালচরে বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় খামারিরা উন্মুক্তভাবে মহিষ লালন পালন করে আসছেন। চরের সবুজ ঘাস খেয়ে প্রাকৃতিকভাবে মহিষ হৃষ্টপুষ্ট হয়। প্রতিদিনের মত আজ শুক্রবার ঘাস খাওয়ানোর জন্য রাখালেরা শতাধিক মহিষ লালচরে ঘাস নিয়ে যায়।  চরের ঘাসে আগে থেকেই দুর্বৃত্তরা বিষপ্রয়োগ করে রাখেন। সেই ঘাস খেয়ে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি মহিষ অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। যার মধ্যে  রফিজ মৃধার একটি, সুমন মাঝির একটি ও  রুহুল আমিনের একটি  মারা গেছেন। এখনো বেশ কয়কটি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

চন্দ্রদ্বীপের রায় সাহেবের বাসিন্দা মহিষ মালিক মস্তফা ফকির বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে লাল চরে মহিষ পালন করি। শতশত মহিষ লালচরের ঘাস খায়। কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এবছর শত্রুতা করে দুর্বৃত্তরা চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগ করে রাখেন। সেই ঘাস খেয়ে মহিষ মারা যাচ্ছে। আমার ১৮টি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আরেক মহিষ মালিক রুহুল আমিন বলেন, বিষ দেওয়া ঘাস খেয়ে একটি মহিষ মারা গেছে। বাকিগুলো অসুস্থ্য। চিকিৎসা চলছে। এবিষয়ে উপজেলা উপ সহকারী প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা গেছে। বাকি মহিষের চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাবার বিষক্রিয়ায় মহিষের মৃত্য হয়েছে। আমরা মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে  পাঠাবো। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানানো যাবে। এবিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম  জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুশি পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে