ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত বিসিআইসি’র বাফার সার গুদামের ইনচার্জ অহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে ডিসপাসের নামে চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। গুদামে সার খালাস না করেই ছাড়পত্র প্রদান, আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং পছন্দের ডিলারদের দ্রুততম সময়ে সার পাইয়ে দেওয়ার মতো অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। যোগদানের পর থেকেই সরকারি নিতিমালাকে উপেক্ষা করে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।বিসিআইসি ডিলার মেসার্স তাজু এন্টারপ্রাইজ(ছন্মনাম) অভিযোগ করেন, নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ট্রাক বাফার গোডাউনে আনলোড না করেই জরুরি সেবার (ডিসপাস) নামে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারদের নামে সারের ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সার খালাস না হলেও প্রতি চালানে লেবার খরচ সহ আনুসঙ্গিক খরচ বাবদ ট্রাক চালকদের মাধ্যমে অবৈধ টাকা গ্রহণ করে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের কারণে অতিরিক্ত খরচের কারনে প্রান্তিক ডিলাররা খরচ পোষাতে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের মূল্য ১৩৫০ টাকা নির্ধারন করলে ও তা সঠিক ভাবে কার্যকর হচ্ছে না। এছাড়া ডিসপাসের নামে দীর্ঘদিন ধরে গুদামেই সার আটকে থাকায় ইউরিয়া সার জমাট বেঁধে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ বাফার গোডাউন থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ১২টি উপজেলার সার বিতরণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই গুদামের অধীনে মোট ১২৬ জন বিসিআইসি ডিলার রয়েছেন।সরোজমিন গিয়ে দেখা যায়, নওয়াপাড়া থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক বিকাল ৬টা ২০ মিনিটে গোডাউনে প্রবেশ করে মাত্র ২০ মিনিট পর শৈলকূপার উদ্দেশ্যে গুদাম ত্যাগ করে। এ সময় ট্রাক চালক রাশেদুল ইসলাম জানান, গাড়িটির সার আনলোড করা হয়নি, শুধুমাত্র ডিসপাস করা হয়েছে।বাফার গোডাউনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে ১১ হাজার ৭৬ মেট্রিক টন এবং আগস্ট মাসে ১৪ হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে। তন্মধ্যে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ৭ হাজার ২৪৭ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিসিআইসি ডিলারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে গুদাম ইনচার্জ অহিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু গাড়ি ডিসপাসের মাধ্যমে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে বিপণন বিভাগের ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মঞ্জুর রেজা জানিয়েছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। সার নিয়ে কেউ অনিয়ম বা দূণীতি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
টিপু সুলতান