দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এখন কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। উচ্চশিক্ষিত হয়েও অনেক তরুণ দীর্ঘদিন চাকরি পাচ্ছেন না। দেশে শিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দক্ষতার ঘাটতিও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেশে প্রায় ৯ লাখ উচ্চশিক্ষিত যুবক বেকার থাকার তথ্য উঠে এসেছে। এর সঙ্গে চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরির ঘাটতি যুক্ত হওয়ায় একদিকে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে অনেক খাতেই প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী পাওয়া কঠিন হচ্ছে। কর্মসংস্থান বাড়াতে শুধু চাকরির বাজারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; নতুন বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগও বাড়াতে হবে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং স্টার্টআপে অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব সুবিধা যেন প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণকে চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সম্প্রতি ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি তরুণকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তব কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে এর সুফল পাওয়া সম্ভব হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বেসরকারি খাতকেও আরও সক্রিয় করতে হবে। শিল্প ও ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়লে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নতুন বিনিয়োগের বাধা কমাতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে চাকরির মেলায় হাজারো তরুণের তাৎক্ষণিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার ঘটনা দেখিয়েছে, দক্ষ তরুণদের সঙ্গে নিয়োগদাতাদের সরাসরি সংযোগ তৈরি করা গেলে দ্রুত ফল পাওয়া সম্ভব। তরুণদের কর্মসংস্থান শুধু ব্যক্তির জীবিকা নিশ্চিত করার বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নও জড়িত। তাই দক্ষতা উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ এবং বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থান-সব দিকেই একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী সম্ভাবনা হয়ে ওঠার বদলে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের বোঝায় পরিণত হবে।