পটুয়াখালীর বাউফলে কাজের বিনিময় টাকা (কাবিটা) প্রকল্পে মসজিদে যাতায়াতের সড়ক মাটি দিয়ে নির্মাণ করার কথা থাকলেও বালু দিয়ে নির্মাণ করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মিতু বেগম। এতে বরাদ্দের বড় একটি অংশের টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী। এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার কালিশুরী ইউনিনের পোনাপুরা জয়নাল মৃধা বাড়ি থেকে কাসেম আলী হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদ পর্যন্ত মাটির সড়ক নির্মাণ কাজে। সড়ক নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মোসা. মিতু বেগম কালিশুরী ইউপি ১,২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য।
স্থানীয় বাসিন্দা, কালিশুরী ইউপি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পোনাহুরা কাসেম আলী হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদের সড়কটি দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় ছিল। এতে মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয়রা চরম ভোগান্তির শিকার হতেন। পরে গত ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় সড়কটি নির্মাণের জন্য ২লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পান কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদের ১,২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোসা. মিতু বেগম। প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, ১শ ৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯মিটার প্রস্থ সড়ক শ্রমিকের মাধ্যমে মাটি দিয়ে নির্মাণ করার কথা। তবে বাস্তবে প্রকল্প সভাপতি মিতু বেগম ও তার স্বামী মো. হানিফ সাজ্জাল মাটি দিয়ে কাজ না করে বালু দিয়ে সড়কটি নির্মাণ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি ৯ফুট চওড়া করার কথা থাকলেও কোথায়ও ৫ ফুট, কোথায়ও ৬ফুট চওড়া করা হয়েছে। সড়কের দৈর্ঘ্য ১০৫ মিটার ধরা থাকলেও মহিলা মেম্বার ৯০ মিটারের মত কাজ করেছেন। মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে কাজ করায় এখনই সড়কে ধস নেমেছে। এ সড়ক বেশি দিন স্থায়ীত্ব হবে না। স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, এটি একটি মসজিদের রাস্তা। বছরের পর বছর দুর্ভোগ ভোগ করার পর সড়কটির উন্নয়নে ২লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মহিলা মেম্বার মিতু ও তার স্বামী নিয়ম অনুযায়ী কাজ না করেনি। মাটির পরিবর্তে বালু দিয়ে মাত্র ৬০ হাজার টাকার কাজ করেছেন। বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
কাসেম আলী হাওলাদার বাড়ির সভাপতি প্রকৌশলী আবদুস সত্তার বলেন, মুসল্লিরা মসজিদে আসতে পারেন না। কমর সমান কাঁদায় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ২লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও ঠিক মত কাজ করেনি। নীতিমালা অনুসরণ করে কাজ না করেই বিল উত্তোলন করে নিয়েছেন। এখন মসজিদের ফান্ডে ১০হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা টাকা চাই না, কাজ ঠিকমত করা হোক। এবিষয়ে মহিলা সদস্য মোসা. মিতু বেগম বলেন, কোথাও মাটি না পাওয়ায় বালু দিয়ে কাজ করেছি। বালু ঠিকমতই দিয়েছে, তবে বালু দুইপাশের কুয়ায় চলে গেছে। কাজে অনিয়ম দুর্নীতির কথা অস্বীকার করেছেন তিনি। এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কাজ যেটুক হয়েছে ভালো হয়েছে। কিছু টাকা মসজিদে দেওয়ার সিন্ধান্ত হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখবো। অনিয়ম হলো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।