ডিজিটাল যুগে ২৪ ঘণ্টায় ডাকসেবা পৌঁছে দেওয়ার সরকারি হাঁকডাকের চরম বৈপরীত্য ফুট উঠেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপায়। সরকারি প্রচারণায় ভরসা রেখে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে জরুরি নথি পাঠাতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। ১৪ দিন পেরিয়ে গেলেও গন্তব্যে পৌঁছায়নি পার্সেল, উল্টো উধাও হয়ে গেছে মরহুমা বোনের একমাত্র মৃত্যুসনদটি (ডেথ সার্টিফিকেট)।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শৈলকুপার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান তাঁর মরহুমা বড় বোনের মৃত্যুসনদটি জরুরি প্রয়োজনে যশোর পুরাতন কসবা এলাকায় বসবাসরত ভাগ্নের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেন। পোস্ট অফিসের দ্রুতগতির 'স্পিড বুকিং' সেবার চটকদার প্রচারণা দেখে আশান্বিত হয়ে তিনি শৈলকুপা উপজেলা পোস্ট অফিসে আসেন এবং রেজিস্ট্রি করেন (ট্র্যাকিং নম্বর: উখ৯১৬১৭২৮৪৭ইঙ)। তবে নির্দিষ্ট দিন গড়িয়ে দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সেই পার্সেল পৌঁছায়নি গন্তব্যে। পার্সেল না পৌঁছানোর কারণ জানতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) শৈলকুপা উপজেলা পোস্ট অফিসে যান মাহমুদুল হাসান। সেখানে দায়িত্বরত পোস্টমাস্টার জয়নাল আবেদীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি পার্সেলটির কোনো হদিস দিতে পারেননি।
গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক নথিটি হারিয়ে চরম মানসিক ও প্রশাসনিক ভোগান্তিতে পড়েন ভুক্তভোগী।ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহমুদুল হাসান বলেন, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডাক বিভাগের আধুনিকায়নের খবর দেখে বিশ্বাস করে এসেছিলাম। কিন্তু তাদের এই চরম গাফিলতি ও অদক্ষতা দেখার পর আর কখনো পোস্ট অফিসের মুখমুখী হব না।"
সচেতন মহলের মতে, সরকার যেখানে সাধারণ মানুষকে স্বল্প খরচে দ্রুততম সময়ে পার্সেল পৌঁছানোর লক্ষ্যে ডাকসেবাকে গতিশীল করার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেখানে স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এমন দায়িত্বহীনতায় ভেস্তে যাচ্ছে সব উদ্যোগ। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শৈলকুপা উপজেলা পোস্টমাস্টার জয়নাল আবেদীন বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং হারিয়ে যাওয়া পার্সেলটির সন্ধানে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।"